দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতন পেয়েছেন দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার সকাল থেকেই চাকরিজীবীদের স্ব স্ব ব্যাংক হিসাবে নতুন স্কেলের মূল বেতন জমা হতে শুরু করে।
অক্টোবরের নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বর্ধিত বেতনের বকেয়া অর্থও একসঙ্গে হাতে পেয়েছেন। তবে মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বকেয়া উত্তোলনের ক্ষেত্রে সবার অভিজ্ঞতা এক নয়। কিছু দপ্তরের কর্মীরা বকেয়া অর্থ পেলেও অনেকেই তা এখনো পাননি।
অন্যদিকে, পে-ফিক্সেশন বা বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় প্রায় এক লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অক্টোবর মাসের বেতন পেতে কিছুটা বিলম্বের মুখে পড়েছেন। তবে অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই জটিলতা কাটিয়ে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বাকি সব কর্মী তাদের ব্যাংক হিসাবে বেতন পেয়ে যাবেন।
নতুন বেতনকাঠামো প্রবর্তনের পর থেকেই তা বাস্তবায়নের মাঠে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জ্যেষ্ঠতার ক্রমবিন্যাস, গ্রেডের ধারাবাহিকতা এবং বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নানা অসংগতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এসব সমস্যার কথা উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার চেয়ে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের দপ্তরে ইতিমধ্যে বেশ কিছু আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, উদ্ভূত জটিলতাগুলো দ্রুত নিরসনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর বহুল প্রতীক্ষিত এই নতুন বেতনকাঠামোর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রাখা হলেও মূল বেতন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। কাঠামো অনুযায়ী, মূল বেতন সর্বমোট ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১তম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
চল ৎপাচ্য নিয়ম অনুযায়ী, এই নতুন কাঠামো ভূতাপেক্ষভাবে গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তারা বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাচ্ছেন। পরবর্তী ধাপে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই হার বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করা হবে এবং একই বছরের ১ জুলাই থেকে বর্ধিত বেতন শতভাগ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া নতুন বেতনকাঠামোয় নির্ধারিত ভাতার হার কার্যকর করা হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জাতীয় বেতনকাঠামো কার্যকর করা হয়েছিল, যার প্রায় এক যুগ পর এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলো।
