পোশাকশিল্পের বিকাশ ও শ্রমিকদের মান উন্নয়নে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় স্লাইড

তৈরি পোশাকশিল্পের অগ্রগতি ধরে রাখতে এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

গতকাল রোববার রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা-সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা, আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এ বিষয়ে মজুরি বোর্ডকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি শ্রম মন্ত্রণালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।” তিনি আরও যুক্ত করেন, দেশের পোশাক খাতের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে এবং সরকার এ খাতকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মজুরি বোর্ড গঠন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান থাকলেও সরকার শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আগেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মালিক ও শ্রমিক উভয়ের প্রতিনিধির নাম পাওয়ার পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই বোর্ডে উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমেই শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও সম্মানজনক জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে।

সম্প্রতি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সহিংসতার কঠোর সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের গাড়িতে আগুন ও কারখানায় অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—যাঁরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন বা সহিংসতায় জড়াবেন, তাঁদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে যে নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হয়। এই অপতৎপরতা রুখতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

আন্দোলনের কারণে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, পোশাকশিল্পের মালিকদের উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো কারখানা বন্ধ হলেও তা যেন সাময়িক হয় এবং মালিক-শ্রমিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছে উৎপাদন সচল রাখা হয়, সে বিষয়ে জোর দেন তিনি।

উক্ত পর্যালোচনা বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *