ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সর্বজনীন করতে চালু হয়েছে নিজস্ব ‘বাংলা কিউআর’ কোড সেবা। এর মাধ্যমে এখন থেকে যেকোনো গ্রাহক সরাসরি অন্য ব্যক্তির ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নির্দেশনায় রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুগান্তকারী সেবাটি চালু হয়েছে।
নিজস্ব কিউআর কোড পাওয়ার উপায় ও ব্যবহারপদ্ধতি
গ্রাহকরা তাঁদের দৈনন্দিন লেনদেন সহজ করার জন্য নিজ নিজ ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপেই এই ব্যক্তিগত কিউআর কোড পেয়ে যাচ্ছেন।
- অ্যাপ আপডেট: এই সেবা পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীদের প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা এমএফএস মোবাইল অ্যাপের সর্বশেষ বা হালনাগাদ ভার্সনটি স্মার্টফোনে ডাউনলোড বা আপডেট করতে হবে।
- হিসাব নম্বর বা নাম টাইপ করার ঝামেলা নেই: এতদিন ‘বাংলা কিউআর’ কোড মূলত দোকানপাটে কেনাকাটা বা মার্চেন্ট পেমেন্ট পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো। নতুন নিয়মের ফলে ব্যাংক বা এমএফএস হিসাব নম্বরের বিপরীতে তৈরি ব্যক্তিগত এই বাংলা কিউআর দিয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পটুপি বা P2P) পর্যায়ে সরাসরি অর্থ লেনদেন করা যাবে। এর ফলে দীর্ঘ ব্যাংক হিসাব নম্বর, রাউটিং নম্বর কিংবা ১১ সংখ্যার মোবাইল নম্বর আলাদাভাবে টাইপ করার কোনো প্রয়োজন হবে না।
- স্ক্যানিং ও গ্যালারি থেকে ছবি আপলোড সুবিধা: টাকা পাঠানোর সময় প্রাপক তাঁর মোবাইলের স্ক্রিনে কিউআর কোড প্রদর্শন করবেন এবং প্রেরক নিজের মোবাইল অ্যাপ দিয়ে তা স্ক্যান করে খুব সহজেই টাকা পাঠাতে পারবেন। এছাড়া প্রাপক দূরে অবস্থান করলে তাঁর কিউআর কোডের ছবি তুলে বা স্ক্রিনশট প্রেরকের কাছে পাঠাতে পারেন। প্রেরক অ্যাপের গ্যালারি থেকে সেই ছবি আপলোড করেও সরাসরি লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।
জালিয়াতি ও ভুল লেনদেনের ঝুঁকি হ্রাস
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কিউআর স্ক্যান বা গ্যালারি থেকে ছবি আপলোড করার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল স্ক্রিনে প্রাপকের নাম ও সংক্ষিপ্ত অ্যাকাউন্ট নম্বর ভেসে উঠবে। এর ফলে ভুল অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাওয়ার আশঙ্কা কিংবা যেকোনো ধরনের জালিয়াতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) মাধ্যমে অত্যন্ত সুরক্ষিত উপায়ে এই লেনদেনগুলো নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও পটভূমি
ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার এই নতুন সংযোজন নিশ্চিত করতে এর আগে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, এমএফএস প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) কাছে নির্দেশনামূলক চিঠি পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
নির্দেশনায় গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজ নিজ মোবাইল অ্যাপে কিউআর প্রস্তুতকরণ, স্ক্যান করার সুবিধা এবং গ্যালারি থেকে ছবি আপলোড করার প্রয়োজনীয় ফিচার বা প্রযুক্তিগত সুযোগ যুক্ত করতে বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশনার সফল বাস্তবায়নের পরই ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো এই সেবা তাদের অ্যাপে যুক্ত করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও লক্ষ্য
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে বাংলা কিউআরভিত্তিক ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেন সেবা এক নতুন মাইলফলক। এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা অত্যন্ত দ্রুত, সহজ এবং নিরাপদ উপায়ে পরস্পরের মধ্যে অর্থ আদান-প্রদান করতে পারছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, দৈনন্দিন লেনদেনে নগদ অর্থের ওপর মানুষের নির্ভরতা কমানো এবং ক্যাশলেস বা নগদবিহীন সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি দেশের পুরো পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ডিজিটাল অর্থনীতির উপযোগী করে তুলতে এই সেবাটি যুগান্তকারী অবদান রাখবে।
