‘বিদ্যুৎখাতের সংকটের জন্য ফ্যাসিস্ট জমানার ভুল নীতি দায়ী’

জাতীয় স্লাইড

 

শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সোমবার (৬ জুলাই) বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও চাই শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ বৈষম্য না থাকুক। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা হচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে সচেষ্ট আছি।’

বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকটের জন্য অতীতের ভুল নীতিকে দায়ী করে তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট জমানায় কী এর চেয়ে ভালো ছিলেন? ফ্যাসিস্ট জমানার ভুল নীতির কারণেই বিদ্যুৎ খাতের সংকট তৈরি হয়েছে।’

এদিকে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায়ের অভিযোগ বিদ্যুৎ বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ। তিনি বলেন, অভিযোগের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও সত্যতা যাচাইয়ে সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরেও রয়েছে এবং তিনি সার্বক্ষণিক এটি পর্যবেক্ষণ করছেন।

তিনি আরও জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর অধিকাংশ অভিযোগেরই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অতিরিক্ত বিল আদায়, দায়িত্বে অবহেলা বা গ্রাহক হয়রানির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সচিব বলেন, বিদ্যুৎ বিল বাড়ার প্রধান কারণ মিটারের ত্রুটি নয়। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গ্রাহকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া এবং উচ্চতর স্ল্যাবে চলে যাওয়ার কারণে অনেকের বিল বেড়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে করণিক ভুলও পাওয়া গেছে। সেসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় প্রতিকার দেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে কখনো কখনো সমস্যায় পড়তে হয়।

যেসব গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সন্দেহ বা অভিযোগ রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে মিটার পরীক্ষা, বিল পুনঃ যাচাই এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানান বিদ্যুৎ সচিব।

মিরানা মাহরুখ বলেন, গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নেতিবাচক প্রচারণায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন না করার জন্য নাগরিকদের অনুরোধ করা হচ্ছে। আবেগের বশবর্তী হয়ে বিদ্যুৎ স্থাপনার ক্ষতিসাধন করলে তা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং জনদুর্ভোগ বাড়াবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *