প্রধানমন্ত্রী ফেনী যাচ্ছেন আজ

জাতীয় স্লাইড

ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক (পাইলট) পর্যায় শেষ হয়েছে। এখন শুরু হচ্ছে বাস্তবায়নের নতুন ধাপ।

আজ বৃহস্পতিবার ফেনী থেকে নিয়মিত কার্যক্রমের সূচনা হচ্ছে। অক্টোবর-নভেম্বরে সারা দেশে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের চূড়ান্ত ধাপে যেতে চায় সরকার।

এদিকে বর্ষার বিরতির পর আবার শুরু হচ্ছে খাল ও নদী পুনঃখনন কর্মসূচি। পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে চলছে কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন কর্মসূচিও।

পরিবার, কৃষক ও পানি ব্যবস্থাপনাকে একই নীতিকাঠামোয় এনে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আজ বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। একই অনুষ্ঠানে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি ভাতা প্রদান করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ফেনীতে আগমন উপলক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ দায়িত্বশীলরা ফেনীতে অবস্থান করছেন।

জানা গেছে, আজ ফেনীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবেন। সমাজে সুবিধাবঞ্চিত নারীপ্রধানদের মধ্যে ফেনীতে আজ ৫১০ জন পাবেন ফ্যামিলি কার্ড। এ ছাড়া দুস্থ ও অসহায় ১০০ জনকে বিশেষ অনুদান দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নেবেন পাঁচজন।

দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ অনুদান পাবেন ৫০ জন। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নেবেন পাঁচজন। ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালিসিস, হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা পাবেন ৩০ জন। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নেবেন পাঁচজন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে আর্থিক অনুদান পাবেন ২০ জন। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নেবেন পাঁচজন।

চলতি বছরের ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়। প্রথমে ১৪ উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম চলে, পরে তিন ধাপে ৫৫ উপজেলায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মধ্যে কর্মসূচিটি শুরু করা হয়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘পাইলট পর্যায়ে কর্মসূচির শক্তি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। গত দুই মাসে সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। এখন নিয়মিত ও বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ফেনীতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হবে। এরপর ১৫ অক্টোবরের পর বড় পরিসরে কার্যক্রম বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে।

এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ৪৩ লাখ কৃষক। উদ্বোধনী পর্যায়ে ৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলার ৭৭টি কৃষি ব্লকের এক লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষক কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন। প্রথম দিনই প্রায় এক লাখ কৃষককে প্রণোদনার আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে সাড়ে ১৯ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে। প্রত্যেক উপকারভোগী বছরে একবার দুই হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই সুবিধা শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য প্রযোজ্য। মাঝারি ও বড় কৃষক আপাতত এই কর্মসূচির আওতায় থাকছেন না।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য দেশব্যাপী দুই কোটি ৪০ লাখ ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা।

বর্ষা শেষে ফিরছে খাল পুনঃখনন। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার বছরে প্রায় ১৪ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন-পুনঃখননের লক্ষ্য রয়েছে। এ বছর এরই মধ্যে ১১০টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। গত ছয় মাসে ৩৭৭ কিলোমিটার খনন-পুনঃখননের কাজ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬০ কিলোমিটার। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে ১৭ কিলোমিটার বেশি কাজ হয়েছে বলে জানা গেছে।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ফেনীতে এক হাজার ৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আগামীকালের (আজ) ফেনী কর্মসূচিতে এ কারণেই খাল-নদী খনন ও পানি ব্যবস্থাপনা আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। মুহুরী ও কহুয়া নদী ঘিরে প্রায় এক হাজার ৫৪২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গত জুনে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও সোনাগাজী—এই চার উপজেলায় বাঁধসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বর্ষার কারণে এপ্রিল থেকে আগস্ট-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখননের কাজ বন্ধ ছিল। বর্ষা শেষ হওয়ায় আবারও এ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আজ ফেনী থেকে আবার খাল পুনঃখননের কর্মসূচি শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।

তিনি বলেন, চলতি বছর এরই মধ্যে ১১০টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। গত ছয় মাসে ৩৭৭ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে পরশুরামে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন করা হবে। এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার এ প্রকল্পের আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী পুনঃখনন এবং সেচ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত প্রায় এক মেগাওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সোলার সিস্টেম থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানি ভাতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের দুই লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় সেবাদানকারীকে এই ভাতার আওতায় আনা হবে। এই কর্মসূচির জন্য বাজেটে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ফেনীতে প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী কর্মসূচি : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ ফেনী সফরে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ফেনীতে এটিই তাঁর প্রথম সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছবেন। সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছাবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ফেনীর তিন উপজেলার সরকারি কার্যালয়ের ছাদে সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে, যা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে। ‘রুফটপ সোলার’ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের এই কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। দেড়টায় কলেজ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরপর ২টায় তাঁর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি। বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি শেষে বিকেল ৫টায় তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে ফেনী ত্যাগ করবেন। রাত ৯টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *