সাবেক আইজিপি বেনজীরকে আনতে নথিপত্র তৈরি শুরু, ইন্টারপোলকে চিঠি

জাতীয় স্লাইড

 

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি শুরু করেছে বাংলাদেশ। এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থায় (ইন্টারপোল) পাঠানো হয়েছে। ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগকারী বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল বুর‍্যোর (এনসিবি) পক্ষ থেকে গত সোমবার ওই চিঠি পাঠানো হয়।

এদিকে দুদক সব ধরনের নথিপত্রসহ প্রত্যর্পণ প্রস্তাব গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।

রেড নোটিশধারী সাবেক আইজিপিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর এনসিবির পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক চিঠি। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বেনজীরকে ফেরানোর জন্য বাংলাদেশ যে কাজ শুরু করেছে, এটি চিঠির মাধ্যমে ইন্টারপোলকে অবহিত করা হয়েছে। দুবাইয়ের আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের দিন থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠাতে হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাইয়ে বেনজীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ১২ জুন একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষ। সোমবার ইন্টারপোলকে চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

ইন্টারপোলের সঙ্গে সমন্বয়কারী এনসিবি শাখায় কাজের অভিজ্ঞতা আছে এমন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকলেও, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তির কারণে বেনজীরকে ফেরত আনা সম্ভব। অতীতে বিভিন্ন সময় দেশটি থেকে আসামি বা বন্দি ফিরিয়ে আনার একাধিক নজির বাংলাদেশের রয়েছে। মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (এমএলএ) বা পারস্পরিক আইনি সহায়তার মাধ্যমে পলাতক অপরাধীকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরত আসা ঠেকাতে বেনজীরের পক্ষ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।

প্রত্যর্পণ প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে দুদক

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাই থেকে দেশে ফেরত আনতে দুদক সব ধরনের নথিপত্রসহ প্রত্যর্পণ প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার তদন্ত দলের প্রধান ও দুদক উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইংরেজি ও আরবিতে অনুবাদ করা প্রস্তাব ও অন্যান্য নথি জমা দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, প্রত্যর্পণ প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। আইন মন্ত্রণালয় প্রস্তাবের ওপর নোটারি করে একটি প্রত্যয়নপত্র দেবে। এর পর প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয় থেকে আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল রাতেই এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা ছিল। প্রস্তাবটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে দু-একদিনের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আকতারুল ইসলাম বলেন, বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা, অভিযোগপত্র, আদালত কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ, আইন-বিধিসহ সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র ওই প্রস্তাবের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, ৮৩ কোটি ৫৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুদক এ পর্যন্ত ছয়টি মামলা করেছে। তিনটি মামলায় বেনজীরকে প্রধান আসামি করা হয়। বাকি তিনটি মামলায় তাঁকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে। গত ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়। মামলাটির বিচার চলছে। এই মামলায় দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তার করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *