চীনে উৎপাদন খরচ চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

আন্তর্জাতিক স্লাইড

চীনে গত চার বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে উৎপাদন খরচ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বরে দেশটির উৎপাদক মূল্যসূচক বেড়েছে ৫ শতাংশ।

তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায় কারখানায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তবে ভোক্তাদের চাহিদা কম থাকায় খুচরা বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে ধীরগতিতে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে উৎপাদক মূল্যসূচক বেড়েছে ৫ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তবে প্রকৃত বৃদ্ধির হার সেই পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২২ সালের জুনের পর কারখানা পর্যায়ে পণ্যের দাম এত দ্রুত আর বাড়েনি।

পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্ন, খারাপ আবহাওয়া ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে।

এতে উৎপাদনকারীদের খরচ বেড়েছে। তবে দেশের ভেতরে চাহিদা কম থাকায় এই বাড়তি খরচের পুরো প্রভাব ভোক্তাদের ওপর পড়েনি।

সেপ্টেম্বরে চীনের ভোক্তা মূল্যসূচক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে এই হার ছিল ০ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে অর্থনীতিবিদেরা ১ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

বাস্তবে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল এর চেয়ে কম।

মাসের হিসাবেও ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির গতি কমেছে। সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনীতিবিদেরা ০ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। আগস্টে এই হার ছিল ০ দশমিক ৪ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন খরচ বাড়লেও ভোক্তা পর্যায়ে দাম খুব বেশি না বাড়ার বিষয়টি চীনের অর্থনীতির দুর্বল দিক তুলে ধরছে। পরিবারগুলোর খরচ করার প্রবণতা কম। পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও আস্থা ফিরছে না। ফলে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ছে না।

এ পরিস্থিতিতে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অভ্যন্তরীণ ব্যয়ের চেয়ে রপ্তানির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভারসাম্যহীনতাও বাড়ছে।

অর্থনীতিকে চাঙা করতে সম্প্রতি আরো সহায়তা বাড়িয়েছে চীন সরকার। অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের জন্য স্থানীয় সরকারগুলোকে অতিরিক্ত ৫৫০ বিলিয়ন ইউয়ান বা ৮২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাড়ি কেনার ঋণের কিস্তিতে ভর্তুকিসহ আরো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে খাদ্য ও জ্বালানির দামের ওঠানামার প্রভাব বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতি সেপ্টেম্বরে ১ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই বৃদ্ধি ঘটেছে। আগস্টেও মূল মূল্যস্ফীতির হার একই ছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপ এখনো সীমিত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *