এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নে আবেদন পড়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি। উত্তরপত্র আবার মূল্যায়নের সুযোগ দেয়ায় রেকর্ড সংখ্যক আবেদন পড়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। আগামী ২১ আগস্ট থেকে শুরু হবে খাতা পুনর্মূল্যায়ন। ৫ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এত অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক খাতা কীভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা গবেষকরা।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার পাশের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এবার সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, কোনো শিক্ষার্থী চাইলে তার ফল পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করতে পারবে। আগে পুনঃনিরীক্ষণের ক্ষেত্রে মূলত নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কিনা, তা দেখা হতো। এবার সেই পদ্ধতি বদলে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেয়া হচ্ছে।
ফল প্রকাশের পরের দিন থেকেই পুনর্মূল্যায়নের আবেদন শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি বিষয়ে আবেদন করেছে। এটি রেকর্ড সংখ্যক আবেদন। শিক্ষা বোর্ড বলছে, প্রচলিত পুনঃনিরীক্ষণের পদ্ধতি থেকে বের হয়ে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেয়ায় এবার আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২১ আগস্ট থেকে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের কাজ শুরু হবে। ৫ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে। আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের সমন্বয়ক অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, কাজটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। যারা উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করবেন, সেই পরীক্ষকদের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
তবে শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, এত অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা বড় চ্যালেঞ্জ। এ কাজে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে, যাতে পুনর্মূল্যায়নের পরও কোনো ভুল না থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় রয়েছে। এ বিষয়ে অ্যাসেসমেন্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে কাজটি করা যায়, সে বিষয়ে তাদের পরামর্শ নেয়া উচিত।
শিক্ষকরাও পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে এত বিপুল সংখ্যক খাতা নির্ধারিত সময়ে কীভাবে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ তাদের। উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, খাতা মূল্যায়নে অন্য কোনো ত্রুটি হয়েছে কিনা, তাও যাচাই করা হবে। সিদ্ধান্তটি ভালো হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন পরীক্ষক যে খাতা মূল্যায়ন করেছেন, সেটি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কিনা, তা যাচাই করা সম্ভব হবে।
এবার গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পুনর্মূল্যায়নের আবেদন সবচেয়ে বেশি পড়েছে। বোর্ড পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে একটি ভুলও একজন শিক্ষার্থীর জীবনে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই শুধু ফল পুনর্মূল্যায়ন করলেই হবে না, এসব ভুলের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
