দেশে সৌরবিদ্যুতের দ্রত বিস্তার নিশ্চিত করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’ এবং সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা আনতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা এবং হংকংয়ের সাথে অপরাধবিষয়ক পারস্পরিক আইনগত সহায়তা (এমএলএ) চুক্তির খসড়াও অনুমোদন লাভ করেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৬তম বৈঠকে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরবর্তীতে তথ্য অধিদফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সৌরবিদ্যুৎ কার্যক্রমকে গতিশীল করতে জারি করা অধ্যাদেশটি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে লেজিসলেটিভ বিভাগের মতামত সাপেক্ষে খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা বিল আকারে আসন্ন সংসদ অধিবেশনে পেশ করা হবে।
সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের বিষয়ে সচিব বলেন, ২০০৬ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনে এ পর্যন্ত ছয়বার সংশোধন আনা হয়েছে। সর্বশেষ সংশোধনটি আইন হিসেবে পাসের লক্ষ্যে আজ অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা। এই নতুন সংশোধনে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা, উন্মুক্ত দরপত্রের আধুনিকায়ন এবং অসদাচরণ রোধে স্পষ্ট বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, সভায় ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন করা হয়। আগামী বছরে সর্বমোট ২৯ দিন সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে ৭ দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (শুক্রবার ও শনিবার) পড়ায় কার্যত মোট সরকারি ছুটি থাকবে ২২ দিন। নির্ধারিত ২৯ দিনের মধ্যে ১৫ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশের ছুটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কর্মচারীদের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’ উপলক্ষে ২ দিনের ঐচ্ছিক ছুটির বিধান রাখা হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তির খসড়াও অনুমোদন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এই চুক্তির ফলে অপরাধী আটক, তথ্য আদান-প্রদানসহ দুই দেশের মধ্যে আইনি সহায়তার নতুন পথ উন্মোচিত হবে।
