বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা

জাতীয় স্লাইড

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থগিত থাকা আন্তর্দেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস নিকট ভবিষ্যতে পুনরায় চালুর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে এবারের আন্তর্দেশীয় রেলওয়ে ইন্টারচেঞ্জ মিটিংয়ে (আইজিআরএম) কোনো অ্যাজেন্ডা রাখা হয়নি।

ভারতীয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রস্তাব পাঠালে এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন মিললে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত আইজিআরএম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হক। বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া বৈঠক শেষ হয় রাত ৯টায়।

জিয়াউল হক বলেন, শুধু যাত্রীবাহী ট্রেন নয়, দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলও রয়েছে।

বৈঠকে আন্তর্দেশীয় বাণিজ্য ও রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্টগুলোর সীমাবদ্ধতা দূর করা, পরিচালনাগত দক্ষতা বাড়ানো, বিভিন্ন ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্টের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ওয়াগনের ভাড়া কমানো, টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম কমানো এবং পুরোনো ওয়াগনের পরিবর্তে নতুন ওয়াগন ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে আগে চলাচলকারী মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালি এক্সপ্রেসের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর আগে ভারতীয় কর্তৃপক্ষই এসব যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচল বন্ধ করেছিল। ফলে বাংলাদেশ এবার ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো অ্যাজেন্ডা দেয়নি। তবে ভারতীয় পক্ষ মৈত্রী এক্সপ্রেসকে নতুন রুটে পদ্মা সেতু দিয়ে পরিচালনার একটি প্রস্তাব বৈঠকে উপস্থাপন করেছে।

মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তনের বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে ট্রেন পরিচালনা করতে হলে নতুন রুটের সক্ষমতা ও বিভিন্ন কারিগরি বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে। এ পথে ট্রেন চালানো সম্ভব হলে যাত্রীদের প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হতে পারে। তবে রুট পরিবর্তনের সঙ্গে ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালাতে হলে ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন সুবিধা, ট্রেনের দিক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্রসওভার এবং কমলাপুর স্টেশনের বর্তমান সক্ষমতা বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে কমলাপুরে চলাচলকারী অন্যান্য ট্রেনের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

জিয়াউল হক স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ রেলওয়ে এককভাবে আন্তর্জাতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রস্তাব পাঠালে বাংলাদেশ সেটি মূল্যায়ন করবে। এরপর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বন্ধন ও মিতালি এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে এবারের বৈঠকে দুই দেশের কোনো পক্ষেরই এজেন্ডা ছিল না বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ এই ট্রেনগুলো বন্ধ করেনি। তাই পুনরায় চালুর বিষয়ে ভারতীয় পক্ষের সাড়া বা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।’

গত বছরের বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিরা নিরাপত্তা নিয়ে কিছু উদ্বেগের কথা বললেও এবার এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান জিয়াউল হক। এটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ।

আগরতলা-আখাউড়া রেলপথে ট্রেন চলাচলের বিষয়ে তিনি বলেন, আগের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই রুটে ট্রেন চালানোর সম্ভাব্য চাহিদার (ডিমান্ড প্রজেকশন) তথ্য দেওয়ার কথা ছিল ভারতের। তবে গত বৈঠকের পর এ বিষয়ে ভারতীয় পক্ষ থেকে নতুন কোনো তথ্য বা যোগাযোগ পাওয়া যায়নি। এবারের বৈঠকে বিষয়টি তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সদস্য (ট্রাফিক) দীপক কুমার ঝা। তিনি বলেন, যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিসের পাশাপাশি দুই দেশের পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল আরও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু দিয়ে পরিচালনার প্রস্তাবটি ভারতীয় এজেন্ডার অংশ ছিল। তবে ট্রেন সার্ভিস পুনরায় চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই দেশের সরকারের ওপর নির্ভর করছে।

দীপক কুমার ঝা বলেন, ইতিবাচক পরিবেশেই এবারের বৈঠক শেষ হয়েছে। আগামী বছর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পরবর্তী আইজিআরএম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগের ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নিয়ে তিনি ‘শতভাগ আত্মবিশ্বাসী’ বলেও জানান।

এদিকে মৈত্রী এক্সপ্রেস পরিচালনা বাবদ বাংলাদেশ থেকে ভারতের প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে এর মধ্যে ৫০ কোটি টাকা পরিশোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও দর-কষাকষি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *