ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে গত কয়েক দিনে সংঘাত আরো তীব্র হয়েছে। উপকূলীয় কিছু এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীর চালানো অভিযানকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ শান্তির জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে হুতিরা।
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে রাতভর হুতিদের দ্রুত অগ্রসর হওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোকা দখলে নেওয়ার দাবি করেছে হুতিরা।
প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি বিশ্বের কোনো আরব, মুসলিম বা অন্য কোনো দেশের প্রতি ইয়েমেনের কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই বলেও দাবি করা হয়েছে। আরো বলা হয়, ইয়েমেন কোনো দেশের ওপর হামলা চালায়নি; বরং আরব ও ইসলামী ভ্রাতৃত্বের নীতির পরিপন্থীভাবে ইয়েমেনই আগ্রাসনের শিকার হয়েছে।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেছে হুতিরা। তাদের ভাষ্য, এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং ইয়েমেনের পক্ষ থেকে এসব নৌপথ কোনো হুমকির মুখে নেই।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে পরিচালিত অভিযান সীমিত পরিসরে এবং আগে ঘোষণা করা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এগুলো প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির। ইয়েমেনের ওপর ‘আগ্রাসন’ বন্ধ এবং অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে চলমান অভিযানও বন্ধ হয়ে যাবে।
এর আগে ইয়েমেনের কয়েকটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, হুতিরা লোহিত সাগর উপকূলের শহর মোকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালাচ্ছে তারা।
অন্যদিকে ইয়েমেন সরকারের বাহিনী ও তাদের মিত্ররা লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি দক্ষিণে ধুবাব এলাকায় সরে যাচ্ছে। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে ধুবাব ও এর বিপরীতে অবস্থিত পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।
‘গেট অব টিয়ার্স’ নামে পরিচিত বাব আল-মান্দেব প্রণালি ইয়েমেনের পাশাপাশি আফ্রিকার জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত। এটি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগরে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এ পথে এশিয়াগামী বিভিন্ন পণ্য, এমনকি রুশ তেলও পরিবহন করা হয়।
ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর বাব আল-মান্দেবও বন্ধ হয়ে গেলে সৌদি আরবের মতো উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো তাদের প্রধান সমুদ্রপথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
চলতি সপ্তাহে হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের চারটি শহরে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হুতিরা দাবি করেছে, তারা খামিস মুশাইত শহরের একটি বিমানঘাঁটি ও আশপাশের শহরের তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরবে এটি অন্যতম বড় হামলা বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
