জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে এক প্রশাসনিক সংস্কার ও বড় ধরনের রশদ রদবদল ঘটানো হয়েছে। রাজস্ব প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের কর্মতৎপরতায় গতিশীলতা আনা, কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে একযোগে ২৬৬ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে (এআরঅ) বদলি ও নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করেছে সংস্থাটি।
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন শাখা-৩ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বহুল প্রতীক্ষিত ও আনুষ্ঠানিক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের বদলি ও পদায়ন করা হয়।। প্রজ্ঞাপনে এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষর করেন।
রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কাস্টমস, ভ্যাট এবং শুল্ক গোয়েন্দা শাখাগুলোর রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম জোরদার করতে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দপ্তর ও আঞ্চলিক কমিশনারেটগুলোতে পুনর্বিন্যাস করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। মাঠপর্যায়ে দীর্ঘ দিন ধরে একই স্থানে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বদলি এবং প্রয়োজন অনুসারে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে কার্যক্রমে নতুন মাত্রা দেওয়াই এই দফতর বদলের মূল লক্ষ্য।
সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠপর্যায়ে শুল্কায়ন, পণ্য খালাস, রাজস্ব পরীক্ষা ও ভ্যাট আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকেন। ফলে এই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের রদবদল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরাসরি প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন অর্থনীতি ও শুল্ক বিশেষজ্ঞরা।
এনবিআরের জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজস্ব প্রশাসনের স্বার্থে এবং জনস্বার্থে (In Public Interest) আইনানুগ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই বদলি ও পদায়নের আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের অনতিবিলম্বে নতুন পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।
বদলিকৃত ২৬৬ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস, ভ্যাট কমিশনারেট, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং এনবিআরের রাজস্ব সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন।
একসাথে এত বিপুলসংখ্যক রাজস্ব কর্মকর্তার বদলির আদেশ জারি হওয়ায় আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক চত্বরগুলোতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন বদলিকৃত কর্মকর্তাদের দ্রুত বর্তমান কর্মস্থল থেকে মুক্ত (Release) করে নতুন দায়িত্বে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে রাজস্ব আদায়ের নিয়মিত স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের ছেদ না পড়ে।
রাজস্ব বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মাঠপর্যায়ের কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনকে আরও সক্রিয় এবং স্বচ্ছ করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলো।
