বাসা-প্রতিষ্ঠানে এডিসের লার্ভা পেলে জরিমানা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয় স্লাইড

 

কোনো বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বড় আকারে জরিমানা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, ‘সচেতনতা বৃদ্ধির পরও যদি অবহেলা দেখা যায়, তবে আমরা কঠোরভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব। যেখানেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানেই আইন অনুযায়ী বড় আকারে জরিমানা করা হবে।’

গতকাল শনিবার সকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে তিন মাসের বিশেষ অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) রাজধানীর ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে এ উদ্বোধানী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।

​অনুষ্ঠানে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বলেন, প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, ছাদ, বারান্দা, ড্রেন ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন কোনো অবস্থাতেই বৃষ্টির পানি বা অন্য কোনো পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। জমে থাকা এই স্বচ্ছ পানিই এডিস মশার প্রজননের প্রধান উৎস। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি পরিবার ও ব্যক্তির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার আজ থেকেই দেশজুড়ে মাইকিংসহ ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করছে। আমরা সবার কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই যে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পানি জমতে না দেওয়াই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায়।’

ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ডিএসসিসির নিজস্ব জরিপে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে ৭ জুন থেকে এক সপ্তাহের বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ধানমণ্ডি সোসাইটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করা হয়। এতে মন্ত্রী–প্রশাসক ও ডিএসিসির পদস্থ কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

অনুষ্ঠান শেষে রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় চলা অনুমোদনহীন মেলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রশাসক আব্দুস সালাম। পরে প্রশাসকের নির্দেশে তাৎক্ষণিক মেলাটি উচ্ছেদ করে ডিএসসিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *