চার দিনের সফল জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় স্লাইড

জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এই দ্বিপক্ষীয় সফর পরিচালনা করেন। সফরটির মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।

আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান।

সফরের প্রধান অর্জন ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা:

শীর্ষ বৈঠক ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা: ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উভয় দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।

বিনিয়োগ প্রস্তাব: বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বিনিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত ত্বরান্বিত করতে জাপানি একটি প্রতিনিধি দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে।

সমঝোতা স্মারক ও ঋণ চুক্তি: সফরে ৬টি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা দলিল এবং ৪৬.৫৬ বিলিয়ন ইয়েনের (প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার) দুটি ইয়েন-লোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এসব চুক্তির আওতায় উপজেলা শাসন উন্নয়ন, ব্যবসায়িক পরিবেশের বিকাশ এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে টহল জাহাজ ক্রয়ের জন্য ২.১২ বিলিয়ন ইয়েনের অনুদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া জেট্রো (JETRO)-তে বেসরকারি খাতে আরও ১৭টি পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

শিল্প অবকাঠামো পরিদর্শন ও ব্যবসায়িক বৈঠক:

টোকিওতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ প্রধানমন্ত্রী জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের অটোমোবাইল, জ্বালানি, হাই-স্পিড রেল, প্রযুক্তি এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

সফরকালে তিনি জাইকা (JICA), জেবিআইসি (JBIC) ও জেট্রোর প্রধানগণ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পাশাপাশি ইউনিক্লো, মিতসুই, সুমিতোমো ও জেরার মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে সরাসরি আলোচনা করেন। সফর শেষ করার আগে প্রধানমন্ত্রী জাপানের ফুত্তসুতে অবস্থিত ‘জেরা’ এলএনজি টার্মিনাল, ইচিকাওয়ার ‘নিতসু’ লজিস্টিকস হাব এবং নাগোয়াতে টয়োটার মোতোমাচি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন।

উভয় দেশের মধ্যবর্তী পরিকল্পিত ‘ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (EPA) দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দীর্ঘমেয়াদী ও সুদৃঢ় ভিত্তি প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *