যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ভোট গণনা শুরু, লড়াইয়ের আভাস

আন্তর্জাতিক স্লাইড

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দেশটির কেন্টাকি ও ইন্ডিয়ানাসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ফল আসতে শুরু করে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদের নির্ধারিত ফল আসা ১০টি আসনের মধ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টি ৮টিতে এবং রিপাবলিকান পার্টি ২টিতে জয় নিশ্চিত করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ডেমোক্র্যাটরা ফ্লোরিডায় চারটি, জর্জিয়ায় তিনটি এবং কেন্টাকিতে একটি আসনে জয় ঝুলিতে পুরেছে; অন্যদিকে রিপাবলিকানরা ফ্লোরিডা ও কেন্টাকিতে একটি করে আসনে জয় লাভ করেছে।

বিশেষ নজরকাড়া জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন ওসোফ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। সেখানে ২৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ওসোফ ৬৫.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন, যেখানে তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্স পেয়েছেন ৩৪.৬ শতাংশ ভোট।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ভৌগোলিক পরিধি ও বিভিন্ন টাইমজোনের কারণে ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হচ্ছে। পূর্বাঞ্চলীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ইন্ডিয়ানা ও কেন্টাকিতে কেন্দ্র বন্ধের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, ভারমন্ট ও ভার্জিনিয়ায় এবং ৭টা ৩০ মিনিটে নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ভোট নেওয়া শেষ হয়। রাত ৮টা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যের ভোট সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও আলাস্কার দূরবর্তী পশ্চিমাঞ্চলে স্থানীয় সময় রাত ১টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

উল্লেখ্য, এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে, উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে এবং বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদসহ স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি নির্বাচনে মার্কিন নাগরিকরা ভোট দিচ্ছেন।

বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষই রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে। তবে এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের মূল লক্ষ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনর্দখল করা। ডেমোক্র্যাটরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের যেকোনো একটিতেও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তবে তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নীতিগত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাঁধা তৈরি করবে; পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরুর আইনি পথও সুগম করবে।

তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ পেতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক আগাম ভোট ও ইমেইল বা ডাকযোগের ব্যালট গণনার বিধিতে ভিন্নতা রয়েছে। ফ্লোরিডার মতো রাজ্যে ভোটের দিন আগেই ব্যালট স্ক্যান করে প্রসেস করার নিয়ম থাকলেও মিশিগান ও উইসকনসিনের মতো সুইং স্টেটগুলোতে ভোটের দিন শেষ হওয়ার আগে ডাকযোগে আসা ব্যালটের খাম খোলার অনুমোদন নেই। এসব প্রশাসনিক বিধির কারণে চূড়ান্ত ফল স্পষ্ট হতে বিলম্ব হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *