যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বুধবার ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে স্বাগত জানিয়েছেন। ট্রাম্পের আমন্ত্রণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন শি।
এএনআই নিউজ জানায়, শির এই সফরের মূল কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক। ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দুই নেতার এটি দ্বিতীয় বৈঠক। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য, প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হতে পারে দুই দেশের চলমান শুল্ক যুদ্ধবিরতি।
গত অক্টোবরে বুসান শীর্ষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। আগামী নভেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তাই যুদ্ধবিরতি আরো বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করতে পারেন। এ ছাড়া চিপ রপ্তানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বর্তমান অনুমতিপত্র নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
তবে এসব বিষয়ে বৈঠকের আগে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিরল মাটির খনিজের সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। এসব খনিজ প্রযুক্তি ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যের উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিরল মাটির খনিজের সরবরাহের ওপর চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। তবে দুই দেশের অর্থনীতির জন্য লাভজনক হতে পারে এমন কিছু ‘অকৌশলগত’ পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, এ ধরনের পণ্যের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন এআই মডেল আগেভাগে দেখানোর বিষয়ে কিছু প্রস্তাব রয়েছে। চীনের উন্মুক্ত উৎসের এআই ব্যবস্থাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। তবে শি ও ট্রাম্পের বৈঠকের আগে মার্কিন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের নির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেননি। যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের আরো কয়েকটি বিরোধপূর্ণ বিষয়ও বৈঠকে উঠতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেক্সিকোর মাদক চক্রগুলোর কাছে ফেন্টানিল তৈরির উপকরণ সরবরাহ বন্ধ করার জন্য চীনের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন। এ ছাড়া চীনের কারাগারে আটক মার্কিন নাগরিকদের বিষয়টিও ট্রাম্প আলোচনায় তুলতে পারেন। আগের বৈঠকগুলোতেও তিনি এ বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শির যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে গত মে মাসে ট্রাম্প নিজেই চীন সফর করেছিলেন। সে সময় বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শি চিনপিং ট্রাম্পকে স্বাগত জানান। ওই সফরে দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে ‘গঠনমূলক, কৌশলগত ও স্থিতিশীল’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এবার শি চিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরেও ট্রাম্প তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানাচ্ছেন।
