‘ভায়োলেন্স’ থেকে সরে দাঁড়ালেন অধরা, হাতছাড়া হয়েছে হলিউড প্রজেক্টও

বিনোদন স্পেশাল

জায়েদ খানের সঙ্গে ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমায় অভিনয়ের কথা ছিল চিত্রনায়িকা অধরা খানের। তবে পরিচালকের অপেশাদার আচরণের অভিযোগ তুলে শুটিং শুরুর আগেই সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

রবিবার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান অভিনেত্রী।

তার দাবি, অনেক আগেই সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

অধরার অভিযোগ, পরিচালকের অপেশাদার আচরণ এবং যথাযথ যোগাযোগের অভাব তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানোর পরও সিনেমাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি বলে দাবি তার।

এত দিন নীরব থাকার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, নিজের বক্তব্যের কারণে সিনেমাটির শুটিং কিংবা এর সঙ্গে যুক্ত সহশিল্পী ও কলাকুশলীদের কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক, তা চাননি। তবে এই নীরবতার সময়টুকুতে তাকে আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অধরার দাবি, ‘ভায়োলেন্স’-এর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে হলিউডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন তিনি। চুক্তিগত গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতা থাকায় সেসব প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতার কারণে আমাকে বড় ধরনের আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ‘ভায়োলেন্স’ এর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে হলিউডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগ গ্রহণ করতে পারিনি। চুক্তিগত গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতা (এনডিএ) থাকায় সেসব প্রজেক্টের বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারছি না।

এখানেই শেষ নয়, সিনেমাটির জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে অন্যান্য কাজের সময়সূচি ও পেশাগত প্রতিশ্রুতি ঠিক রাখতে পারেননি অধরা। এ কারণে তার কাস্টিং ডিরেক্টর ও এজেন্সির কাছ থেকেও সতর্কবার্তা পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

সিনেমাটির শুটিংয়ের সময়সূচি নিয়ে যোগাযোগের ধরনও হতাশ করেছে অধরাকে। তার কথায়, শুটিংয়ের মাত্র এক দিন আগে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। এমন অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বাংলা সিনেমার প্রতি ভালোবাসা থেকেই ‘ভায়োলেন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন অধরা খান। তবে পুরো অভিজ্ঞতাকে এখন নিজের ক্যারিয়ারের বড় ভুল হিসেবে দেখছেন তিনি। অভিনেত্রীর মতে, কোনো প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার আগে পেশাদারি, যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সম্মানের বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল।

পোস্টে অধরা আরো উল্লেখ করেছেন, কিছু অভিজ্ঞতা মানুষকে ভবিষ্যতে আরও সচেতনভাবে এগিয়ে যেতে শেখায়। তার মতে, পেশাগত সম্পর্কে পারস্পরিক সম্মান ও পেশাদারি কখনো একতরফা হওয়া উচিত নয়। একজন শিল্পী হিসেবে নিজের সময়, শ্রম ও আত্মসম্মানের মূল্য দেওয়াও তার দায়িত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *