কোম্পানি করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোম্পানি করদাতারা এখন আগামী ১৫ মে পর্যন্ত তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়, যা করদাতাদের জন্য স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে একাধিকবার সময়সীমা বাড়ানোর পর কোম্পানি করদাতাদের রিটার্ন জমার শেষ সময় নির্ধারিত ছিল ১৫ এপ্রিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় আবারও সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা, আর্থিক নথিপত্র প্রস্তুতিতে বিলম্ব এবং কর সংক্রান্ত তথ্য সমন্বয়ের কারণে অনেক কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে করনীতির দ্বিতীয় সচিব মো. একরামুল হক স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩–এর ধারা ৩৩৪–এর দফা (খ)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা এবং হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUF) ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের করদাতার ক্ষেত্রে ২০২৫–২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়ানো হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে মূলত কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, ফার্মসহ বিভিন্ন করদাতা শ্রেণি অতিরিক্ত সময় পাচ্ছে, যা তাদের জন্য রিটার্ন প্রস্তুত, নিরীক্ষা সম্পন্ন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ তৈরি করবে। কর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়সীমা বাড়ানোর ফলে করদাতারা আরও নির্ভুল ও সঠিকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন, যা রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
একই সঙ্গে এনবিআর আশা করছে, সময় বাড়ানোর ফলে রিটার্ন দাখিলের হার বাড়বে এবং রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াও আরও গতিশীল হবে। তবে বারবার সময়সীমা বাড়ানোকে কিছু বিশ্লেষক কর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা হিসেবেও দেখছেন। তাদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করদাতাদের রিটার্ন জমা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পরিকল্পনা ও নজরদারি প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা আইনগত বাধ্যবাধকতা। সময়সীমা অতিক্রম করলে করদাতাদের জরিমানা বা অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে। তাই বাড়তি সময়কে কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন জমা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কর কর্মকর্তারা।
সব মিলিয়ে, নতুন করে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কোম্পানি করদাতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে, যা তারা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে কর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
