১১ খাতে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক, এনবিআরের আদেশ জারি

অর্থনীতি বিশেষ প্রতিবেদন স্পেশাল

দেশের রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, অটোমেশন জোরদার এবং কর ফাঁকি রোধে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১১টি শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ই-ভ্যাট পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়েছে। এনবিআরের ভ্যাট অনুবিভাগ শাখা থেকে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত নির্দেশনামূলক প্রজ্ঞাপন ও আদেশ জারি করা হয়। আদেশটি প্রকাশের পর থেকেই তা অবিলম্বে কার্যকর বলে গণ্য হয়েছে।

অনলাইন ভ্যাট রিটার্নের আওতাভুক্ত খাতসমূহ

এনবিআরের জারি করা নতুন এই নির্দেশের ফলে বেশ কয়েকটি বড় উৎপাদনকারী ও সেবা প্রদানকারী খাতের ব্যবসায়ীদের সরাসরি অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আসতে হচ্ছে। যেসব খাতে ই-ভ্যাট পোর্টালের মাধ্যমে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সেগুলোর বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

  • উৎপাদনশীল শিল্পখাত: সিগারেট, ওষুধ, মোবাইল ফোন, পানীয়, এমএস পণ্য (রড ও লোহাজাত সামগ্রী), টাইলস এবং রং ও বার্নিশ।

  • আর্থিক ও সেবা খাত: ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, বিমা খাত এবং মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।

আদেশের বিশেষ শর্ত ও অন্যান্য নির্দেশনা

এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান যদি উল্লিখিত ১০টি নির্ধারিত পণ্য বা সেবার বাইরে অন্য কোনো ব্যবসায়ে জড়িত থাকে, তবে তাদের ক্ষেত্রেও অনলাইন রিটার্ন দাখিলের নিয়ম সমভাবে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, তালিকার অধীন কোনো একটি খাতে ব্যবসা পরিচালনা করলেই সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ই-ভ্যাট সিস্টেমে প্রবেশ করতে হবে।

এছাড়া, অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন সংক্রান্ত এনবিআরের আগে জারি করা সব আগের নির্দেশ বা আদেশ এই নতুন নির্দেশনা জারির সঙ্গে সঙ্গেই রহিত ও বাতিল বলে গণ্য হবে। একই সাথে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এই তালিকায় নতুন যেকোনো খাত সংযোজন বা বিদ্যমান কোনো খাত বিয়োজনের পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে পরোক্ষ কর ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নিবিড় তদারকির আওতায় আনতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *