আরও ৫ হাজার আয়কর রিটার্ন অডিটে এনবিআর

অর্থনীতি স্লাইড

 

রাজস্ব আদায় কার্যক্রম আরও গতিশীল, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে ব্যক্তিশ্রেণির আরও ৫ হাজার ১৪টি আয়কর রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ঝুঁকিভিত্তিক (রিস্ক-বেইজড) মানদণ্ড অনুসরণ করে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড পদ্ধতিতে এসব আয়কর রিটার্ন নির্বাচন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের মানবীয় বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এনবিআর জানিয়েছে, অডিটের জন্য নির্বাচিত ৫ হাজার ১৪টি আয়কর রিটার্নের তালিকা আজ সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচিত করদাতারা ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়েছে কি না, তা জানতে পারবেন।

এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে দুই ধাপে বিপুলসংখ্যক আয়কর রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল। প্রথম ধাপে ১৫ হাজার ৪৯৪টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৭২ হাজার ৩৪১টি আয়কর রিটার্ন নির্বাচন করা হয়। দুই ধাপ মিলিয়ে প্রায় ৮৮ হাজার আয়কর রিটার্ন অডিটের আওতায় আনা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আরও ৫ হাজার ১৪টি রিটার্ন নির্বাচন করায় অডিট কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত হলো।

রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঝুঁকিভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে যেসব আয়কর রিটার্নে নির্দিষ্ট কিছু সূচক বা তথ্যের ভিত্তিতে অডিটের প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়, কেবল সেসব রিটার্নই অটোমেটেড সিস্টেমের মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারনির্ভর হওয়ায় কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির ইচ্ছামতো কোনো রিটার্ন অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। এর ফলে অডিট নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

এনবিআরের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই করদাতা, ব্যবসায়ী মহল এবং সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে আয়কর অডিট নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার দাবি জানানো হচ্ছিল। সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে রিটার্ন নির্বাচন সেই প্রত্যাশা পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন করদাতাদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে অডিট কার্যক্রমও হবে আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা চালুর ফলে কর প্রশাসনে জবাবদিহিতা বাড়বে এবং কর ফাঁকি বা তথ্য গোপনের মতো অনিয়ম শনাক্ত করা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত করদাতাদের হয়রানির আশঙ্কাও কমবে, কারণ নির্বাচন পুরোপুরি নির্ধারিত ঝুঁকিভিত্তিক মানদণ্ড অনুসরণ করে করা হচ্ছে।

এনবিআর আরও জানিয়েছে, সরকারের রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অডিট কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ রিটার্ন চিহ্নিত করে অডিট পরিচালনা করা গেলে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং কর ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এ কারণে ভবিষ্যতেও প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অডিট নির্বাচন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রাজস্ব প্রশাসনের কর্মকর্তারা আশা করছেন, সম্পূর্ণ অটোমেটেড এই অডিট নির্বাচন ব্যবস্থা কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং দক্ষতা আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে এটি সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং কর প্রশাসনের আধুনিকায়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *