মেক্সিকোতে মাদক সম্রাট ‘এল মেনচো’র মৃত্যুর পর সহিংসতা, নিরাপত্তা বাহিনীর ২৫ সদস্য নিহত

মেক্সিকোতে মাদক সম্রাট ‘এল মেনচো’র মৃত্যুর পর সহিংসতা, নিরাপত্তা বাহিনীর ২৫ সদস্য নিহত

আন্তর্জাতিক স্লাইড

 

মেক্সিকোর শীর্ষ মাদক সন্ত্রাসী এল মেনচো সামরিক অভিযানে নিহত হওয়ার পর দেশটিতে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মেক্সিকোর জালিসকো প্রদেশে সহিংসতায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ন্যাশনাল গার্ডের অন্তত ২৫ সদস্য নিহত হয়েছেন।

দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী ওমার গারসিয়া হারফুচ এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।

গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) মেক্সিকোর বিশেষ বাহিনীর হাতে আটক হন এল মেনচো। তার আসল নাম নেমেসিও ওসেগুয়েরা সারভান্তেস। আটক হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এরপর দেশটির অন্তত ২০টি প্রদেশে বিক্ষোভ শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য দেশের পশ্চিমাঞ্চলে আড়াই হাজার সেনাকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্দো ত্রেভিলা।

এল মেনচো জালিসকো নিউ জেনারেশন (সিজেএনজি) মাদক চক্রের নেতা। এটিকে মেক্সিকোর সবচেয়ে ভয়ংকর মাদকচক্র বলা হয়। তিনি দেশটিতে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন। এল মেনচো’র একজন প্রেমিকাকে অনুসরণ করে তাকে খুঁজে পায় নিরাপত্তা বাহিনী। আটকের সময় তার নিরাপত্তারক্ষী ও সেনা সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধে তিনি আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।

সামরিক অভিযানে এল মেনচোর নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে অন্তত ছয়জনও নিহত হন। আহত হন তিন সেনা সদস্য। মেক্সিকোর নিরাপত্তামন্ত্রী ওমার গারসিয়া জানিয়েছেন, শীর্ষ মাদক সন্ত্রাসীর মৃত্যুর পর সহিংসতায় একজন কারারক্ষী, প্রদেশের প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের একজন সদস্য এবং এল মেনচোর মাদক চক্রের ৩০ সদস্য নিহত হয়েছেন।

এদিকে এল মেনচো’র মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর, তার চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন শহরে হামলা চালান। কোনো কোনো শহরে তারা কাঁটা ও পেরেক বিছিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। আবার কোনো শহরে রাস্তায় যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, সোমবার সকাল নাগাদ রাস্তা থেকে সব অবরোধ সরানো হয়েছে।

এ ছাড়া মাদক চক্রের সদস্যরা কয়েক ডজন ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেন। এতে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সহিংস পরিস্থিতির কারণে জালিসকোর গভর্নর পাবলো লেমুস নাভারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজ্যজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারির ঘোষণা দেন এবং বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেন। এতে অনেক শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *