৫ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বারভিডা কার এক্সপো ২০২৬’

অর্থনীতি স্লাইড

বাংলাদেশে জাপানি গাড়ির অর্ধশতবর্ষের ঐতিহাসিক পথচলা উদযাপন এবং দেশের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজারকে নতুন করে গতিশীল করতে আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘বারভিডা কার এক্সপো ২০২৬’। বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) আয়োজনে রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এ প্রদর্শনী চলবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর এক অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শনীর সার্বিক প্রেক্ষাপট ও আয়োজনের মূল রূপরেখা তুলে ধরেন বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ কার্যনির্বাহী কমিটির শীর্ষ নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীতে প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের কোনো প্রবেশ ফি দিতে হবে না। এতে করে একই ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে ক্রেতা ও গাড়িপ্রেমীরা জাপানের জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বৈশিষ্ট্য, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং বাজারমূল্যের তুলনামূলক সুবিধা যাচাই-বাছাই করার সুযোগ পাবেন।

রিয়াজ রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রদর্শনীতে টয়োটা প্রিয়াস, করোলা ক্রস, হ্যারিয়ার, নোয়া, ভক্সি এবং আলফার্ডের মতো জাপানের শীর্ষস্থানীয় ও অত্যন্ত জনপ্রিয় সব মডেল প্রদর্শন করা হবে। দর্শনার্থীরা তাঁদের নিজস্ব বাজেট ও চাহিদানুযায়ী সরাসরি বিভিন্ন আমদানিকারক ও প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত দর যাচাই করতে পারবেন, যা সঠিক গাড়ি নির্বাচনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

এবারের প্রদর্শনীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো বাংলাদেশে জাপানি গাড়ির ৫০ বছরের ইতিহাস কেন্দ্রিক বিশেষ প্রদর্শনী। দেশীয় পরিবহন খাতে জাপানি গাড়ির আগমন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজন্মের জনপ্রিয় মডেল, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসব বাহনের অবদান চিত্রিত করা হবে এখানে। এতে ভিনটেজ বা পুরোনো দিনের গাড়ির দুর্লভ আলোকচিত্র থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের হাইব্রিড ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিবর্তনের গল্প ফুটিয়ে তোলা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা নেতারা জোর দিয়ে বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি খাতের অবদান অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এ খাত শুধু গাড়ি আমদানি বা বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ, প্রযুক্তির বিকাশ এবং সরকারের বড় অংকের রাজস্ব আয় জড়িত। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি খাতের বহুমাত্রিক গুরুত্ব সর্বসমক্ষে তুলে ধরা হবে।

আয়োজক সংগঠন বারভিডার মূল উদ্দেশ্য হলো রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজারকে আরও জনপ্রিয় ও গ্রাহকবান্ধব করা, সরাসরি ক্রেতা-বিক্রেতা সম্পর্কের সেতু তৈরি করা এবং গাড়ির গুণগত মান ও সুরক্ষা সম্পর্কিত জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। সব স্তরের গাড়িপ্রেমী, সম্ভাব্য ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পরিবারদের এই বিশাল আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে বারভিডা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *