ট্রাম্পের হুংকার: আমি যখন চাইব, তখন ইরান যুদ্ধ শেষ হবে

আন্তর্জাতিক স্লাইড

ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তার স্বভাবসুলভ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ডমিন্যান্সের সুর চড়ালেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির উত্তাল সমীকরণে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, আমি যখন চাইব, তখন ইরান যুদ্ধ শেষ হবে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান যদি চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয়ভাবে পরমাণু অস্ত্র অর্জনের স্বপ্ন ত্যাগ করার আনুষ্ঠানিক ও দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা না দেয়, তবে মার্কিন প্রশাসন বা তার মিত্ররা কোনো নরম অবস্থান নেবে না।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

টেক্সাসের লাবক শহরে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় হাজার হাজার সমর্থকের সামনে এই মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী এই নেতা। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে প্রধান আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প তার বক্তৃতায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কঠোর হুংকার দিয়েছেন।

জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, অতীতে তাকে এক সাক্ষাৎকারে বা আলোচনায় প্রশ্ন করা হয়েছিল—ইরানের সঙ্গে এই দ্বন্দ্ব বা যুদ্ধের শেষ কোথায়? এর জবাবে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আমি যখন চাইব, তখনই এই যুদ্ধ শেষ হবে।’ তার মতে, ওয়াশিংটন চাইলে পরিস্থিতি মুহূর্তে শীতল করতে পারে, কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী সংকট চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে তিনি এও যোগ করেন যে, যুদ্ধ কেবল দ্রুত শেষ করলেই চলবে না, বরং তা করতে হবে অত্যন্ত নিখুঁত ও যথাযথ উপায়ে, যাতে ভবিষ্যতে আমেরিকার বা তার মিত্ররাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার জন্য কোনো ধরনের হুমকি অবশিষ্ট না থাকে।

ইরানের পারমাণবিক ambitions বা উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বহু বছর ধরে ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলেই ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে বেরিয়ে এসেছিল এবং তেহরানের ওপর একের পর এক কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। লাবকের নির্বাচনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প সেই পুরনো অবস্থানকে আরও জোরালো করে তোলেন। তিনি শর্ত জুড়ে দেন যে, তেহরানকে সবার সামনে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করতে হবে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হবে না। এই শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য তার নির্বাচনী কৌশলের একটি অংশ হতে পারে, যার মাধ্যমে তিনি আমেরিকান ভোটারদের সামনে নিজেকে একজন ‘শক্তিশালী সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে এটি একটি কড়া বার্তা—মার্কিন নেতৃত্ব যেকোনো সংকটের গতিপ্রকৃতি একা হাতে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে। তবে ট্রাম্পের এই হুংকার তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক দূরত্ব ও আস্থার সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই চরম শর্তের জবাবে ইরানি নীতিনির্ধারক ও সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কী ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *