প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে সামনে রেখে ঢাকা-জাপানের নারিতা রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে এ রুটে সপ্তাহে একটি ফ্লাইটের পরিবর্তে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।
এতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগের সুযোগ বাড়বে। বিমানের পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) মো. আশরাফুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা সপ্তাহে একটি থেকে বাড়িয়ে দুটি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ফ্লাইটটি আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে চালু হবে।’
তিনি জানান, এখন থেকে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান।
নতুন সূচি কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী পরিবহনে সক্ষমতা বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাবেন। এ সফরে তিনি বিমানের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশটিতে যাত্রা করবেন। সফর শেষে আগামী ২৯ অক্টোবর নারিতা থেকে বিমানের নতুন বৃহস্পতিবারের ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন আশরাফুল আলম।
চলতি বছরের ২৭ জুলাই ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর এ রুটে ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের একমাত্র বিরতিহীন আকাশ যোগাযোগ আবারও প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রায় তিন মাসের মাথায় ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল সংস্থাটি।
প্রাথমিকভাবে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে বিমান। যাত্রী চাহিদা, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ফলাফল এবং উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা বিবেচনায় নিয়ে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল সংস্থাটির।
বিমানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর পর যাত্রীদের কাছ থেকে উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া গেছে। বিশেষ করে জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে এ সেবা ব্যবহারে আগ্রহ দেখা গেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে জাপানে ৪০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মী বসবাস করছেন। তাঁদের যাতায়াতের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ার ফলে সরাসরি ফ্লাইটের চাহিদাও বাড়ছে।
বাংলাদেশি যাত্রীদের উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত সহজ করতে নারিতাকে ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বিমান।
এ লক্ষ্যে জাপান এয়ারলাইনস (জেএএল) ও এয়ার কানাডার সঙ্গে সম্ভাব্য কোডশেয়ার ব্যবস্থার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। প্রস্তাবিত অংশীদারত্ব চূড়ান্ত হলে সমন্বিত টিকিটিং ও ব্যাগেজ ব্যবস্থার আওতায় নারিতা হয়ে ভ্যাঙ্কুভার, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিউলের মতো গন্তব্যে সংযোগ ফ্লাইটে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ১৭ বছর বিরতির পর ঢাকা-নারিতা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়েছিল। তবে উড়োজাহাজের সংকট, পরিচালন ব্যয় ও বাণিজ্যিক বিবেচনায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই এ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ও বিমান চলাচল সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে রুটটিতে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করে বিমান। এবার সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ফলে যাত্রীদের ভ্রমণের বিকল্প বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রুটটির বাণিজ্যিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, বিমান চলাচল ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
