মেট্রোরেলে বসছে বিমানবন্দরে ব্যবহৃত আর্চওয়ে ও লাগেজ স্ক্যানার

জাতীয় স্লাইড

রাজধানীবাসীর দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের অন্যতম ভরসাস্থল মেট্রোরেলে নিরাপত্তা জোরদারে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছে পরিচালনকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আদলে এখন থেকে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতেও কার্যকর করা হবে কড়া ও আধুনিক নিরাপত্তা তল্লাশি ব্যবস্থা। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ এবং বিপুলসংখ্যক যাত্রীর সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই সর্বাধুনিক ব্যবস্থা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আর্চওয়ে ও লাগেজ স্ক্যানার বসানোর উদ্যোগ

নতুন এই নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় প্রতিটি মেট্রোরেল স্টেশনের প্রবেশমুখে বসানো হবে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর এবং সর্বাধুনিক লাগেজ স্ক্যানার।

শরীরে ধাতব বস্তু শনাক্তকরণ: আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টরের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় যাত্রীদের কাছে থাকা যেকোনো ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক ধাতব বস্তু মুহূর্তের মধ্যেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

মালামাল ও ব্যাগ স্ক্যানিং: যাত্রীরা যে ব্যাগ বা মালামাল সঙ্গে বহন করবেন, তা লাগেজ স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করানো হবে। এর ফলে ব্যাগের ভেতরে সন্দেহজনক কিছু থাকলে তা স্টেশনের দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে চলে আসবে।

বর্তমান ব্যবস্থার চেয়ে এই স্বয়ংক্রিয় স্ক্যানিং ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ায় মেট্রো স্টেশনগুলোর সামগ্রিক সুরক্ষা ও তল্লাশি সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

নিরাপত্তা সরঞ্জাম ক্রয়ে ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান

নিরাপত্তা সরঞ্জাম ক্রয়ের এই বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে গত ১৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে একটি অনলাইন দরপত্র (Tender) আহ্বান করেছে ডিএমটিসিএল। সংস্থাটির স্টোর অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টালের মাধ্যমে যোগ্য ও আগ্রহী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দরপত্র জমা দিতে পারবে। সংশ্লিষ্ট দরপত্রের খুঁটিনাটি ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা সরাসরি ই-জিপি পোর্টালেই পাওয়া যাবে। এছাড়া আবেদনকারীদের যেকোনো কারিগরি সহায়তার জন্য হেল্পডেস্কের ই-মেইল ঠিকানা (helpdesk@eprocure.gov.bd) প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত ডিপোর বৈদ্যুতিক কাজ

একই দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে শুধু নিরাপত্তা সরঞ্জাম কেনার বিষয়ই নয়, মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৬-এর মূল ডিপোর সার্বিক বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিকেও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।

এর আওতায় ডিপোতে থাকা:

লো-ভোল্টেজ (এলভি) সিস্টেম,

ডিজেল জেনারেটর সেট,

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা (ইউপিএস),

বায়ু চলাচল (ভেন্টিলেশন) ব্যবস্থা, এবং

অন্যান্য প্রয়োজনীয় সাধারণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা কাজ নিশ্চিত করা হবে।

সময়সূচি ও বাস্তবায়নের সম্ভাব্য চিত্র

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দরপত্রের নথি বা টেন্ডার ডকুমেন্ট কেনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

তবে ঠিক কতটি আর্চওয়ে বা লাগেজ স্ক্যানার কেনা হচ্ছে, প্রাথমিক পর্যায়ে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে এগুলো বসানো হবে এবং যাত্রীদের ওপর বাধ্যতামূলক তল্লাশি ঠিক কবে থেকে শুরু হবে—এসব নির্দিষ্ট তথ্য ডিএমটিসিএলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। দরপত্র প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর দ্রুতই এই আধুনিক সরঞ্জামগুলো বসানোর কাজ শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *