দুদকের আবেদনে এনএসআইয়ের দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

জাতীয় স্লাইড

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালক এম এস কে শাহীন এবং যুগ্ম পরিচালক বদরুল আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সোমবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুটি আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম।

দুদকের পক্ষে অনুসন্ধান ও তদন্তকারী কর্মকর্তা, সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার এ দুই কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন জানান। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই পৃথক পৃথক গুরুতর অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত চলমান রয়েছে এবং বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে যে, তাঁরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আদালতে পেশ করা প্রতিবেদনে এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক বদরুল আহমেদের বিষয়ে বলা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি মুদ্রায় অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে একটি গভীর অনুসন্ধান ও তদন্ত চলছে। দুদক কর্মকর্তা আদালতকে জানান, বদরুল আহমেদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে এবং তাঁর মাধ্যমে পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে, এনএসআইয়ের অতিরিক্ত পরিচালক এম এস কে শাহীনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, চাঁদাবাজি এবং নিজ নামে ও বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সবিস্তার অনুসন্ধান করছে দুদক। আবেদনে বলা হয়, শাহীনও দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। যদি তিনি বিদেশে পালিয়ে যান, তবে রাষ্ট্রীয় অর্থ উদ্ধার ও তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে যাবে।

আদালত অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার যুক্তি, আনীত অভিযোগের গুরুত্ব এবং আসামিদের সম্ভাব্য দেশত্যাগের সার্বিক ঝুঁকি বিবেচনা করে দুই কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় সাময়িক স্থগিতাদেশ ও নিষেধাজ্ঞা দেন। একই সঙ্গে তাঁদের পাসপোর্ট বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর ও সীমান্তবর্তী চেকপোস্টগুলোতে এই নির্দেশনা অবিলম্বে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা দেশের সীমানা পেরোতে না পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *