সামরিক সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় গৃহযুদ্ধপীড়িত ইয়েমেনে গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহের টানা সংঘর্ষ ও সংঘাতের জের ধরে অন্তত ২ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি সাধারণ মানুষ নিজ নিজ বসতভিটা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর দেওয়া সাময়িক তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা সম্প্রতি এই সংক্রান্ত একটি আশঙ্কাজনক চিত্র প্রকাশ করে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় হাজার হাজার পরিবার বাধ্য হয়ে জীবন বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছড়িয়ে পড়ছেন। এসব বাস্তুচ্যুত মানুষের সিংহভাগই চরম অনিরাপদ, সংকুচিত ও উপচে পড়া ভিড়ের অস্থায়ী আশ্রয়স্থলগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ধরনের বৈরী ও গাদাগাদি পরিবেশে বসবাস করায় চরম শারীরিক ও সামাজিকভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন অসহায় নারী, দুধের শিশু, প্রবীণ নাগরিক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা।
আইওএম-এর মানবিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক করুণ চিত্র। তাতে বলা হয়, নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়া পরিবারগুলোর একটি বিশাল অংশ বিগত বছরগুলোতে একাধিকবার স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছিল। বারবার এলাকা ছাড়ার ফলে এসব পরিবারের যেটুকু আর্থিক সম্বল ও গৃহস্থালি সম্পদ ছিল, তা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
নিজের চেনা পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এসব মানুষের উপার্জন বা জীবিকা অর্জনের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মৌলিক পুষ্টি, আশ্রয় ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মতো জরুরি চাহিদাগুলো মেটানোর ন্যুনতম সামর্থ্য তাদের হাতে নেই। খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে লাখ লাখ মানুষের।
এদিকে, হুট করে লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের এই ঢল ইয়েমেনের ওই অঞ্চলগুলোর স্থানীয় অধিবাসীদের জীবনযাত্রায় চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যেসব এলাকায় তারা আশ্রয় নিচ্ছেন, সেখানকার বিদ্যমান স্থানীয় সম্পদ ও অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত ভার তৈরি হচ্ছে। আইওএম জানিয়েছে, আগে থেকেই স্থবির হয়ে থাকা ও আর্থিক টানাপোড়েনে চলা আন্তর্জাতিক ত্রাণ সাহায্য ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমগুলো এত বিপুল সংখ্যক মানুষের আকস্মিক প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, যা সমগ্র ইয়েমেনকে এক অভূতপূর্ব মহাবিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
