ভারতের বাণিজ্য নগরী মুম্বাইয়ের বুকে আবারও বন্দুকধারীদের দৌরাত্ম্য। এবার কুখ্যাত অপরাধী চক্র লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় বলিউড তারকা টাইগার শ্রফ। মুম্বাইয়ের পশ্চিম শহরতলি এলাকার জুহু থানার অন্তর্ভুক্ত পুষ্পা পার্কের কাছে রবিবার (১৮ অক্টোবর) এই সশস্ত্র হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলায় অভিনেতা নিজে প্রাণে বেঁচে গেলেও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তাঁর গাড়িচালকসহ এক সাধারণ অটোরিকশাচালক।
সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দুই সদস্য অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধু।
পুলিশ জানিয়েছে, আক্রমণের হাত থেকে অভিনেতা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, গোলাগুলির সময় অভিনেতার শরীরে কোনো গুলি লাগেনি, তবে তাঁর চালক ফিরদৌসের বাঁ হাতে বুলেটের আঘাত লেগেছে। ঘটনার সাথে সাথেই টাইগার শ্রফ এবং গাড়িচালক ফিরদৌসকে স্থানীয় ভিলে পার্লের নানাবতী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক দল পরীক্ষা করে জানান, অভিনেতা সামান্য আঁচড় বা ছড়ে যাওয়ার মতো আঘাত পেলেও বড় ধরনের কোনো বুলেটের আঘাত থেকে বেঁচে গেছেন।
তবে গোলাগুলির মাঝে পড়ে এক পথচারী অটোরিকশাচালক বুকে গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধারকারীরা তাঁকে কুপার হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
হামলার কিছুক্ষণ পরই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অনুসারী অনিল পণ্ডিত ফেসবুক বার্তার মাধ্যমে হামলার দায় নিশ্চিত করে একটি হুমকি বার্তা জারি করেন। ফেসবুকে তিনি লেখেন, “সব ভাইদের রাম রাম। আজ টাইগার শ্রফের সাথে যা ঘটেছে তার দায়ভার অনিল পণ্ডিত এবং হারমান সান্ধু নিচ্ছে। আমরা তাকে ফোন করে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সে বোঝেনি। তাই আজ আমরা তাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছি।”
বলিউডের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে সেই পোস্টে আরও বলা হয়, “মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যে কেউ আমাদের কথা শুনবে না বা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবে, সেই হবে পরবর্তী লক্ষ্য। অপেক্ষা করুন এবং দেখুন।”
মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, অনলাইনে ছড়ানো এই পোস্টগুলোর সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে গ্যাংটির প্রকৃত যোগসূত্র এখনো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপলব্ধ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং হামলার প্রকৃত কারণ খুঁজতে তদন্ত জোরদার করেছে।
প্রসঙ্গত, মুম্বাইয়ের হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পের তারকা ও কলাকুশলীদের লক্ষ্য করে এ ধরনের গুলিবর্ষণের ঘটনা ইদানীং আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই জুহু এলাকায় নামী পরিচালক রোহিত শেঠির বাড়ির সামনে গিয়ে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যরা।
এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে দুই সশস্ত্র হামলাকারী হেলমেট পরে মোটরবাইকে এসে বান্দ্রা এলাকায় বলিউড মেগাস্টার সালমান খানের ‘গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট’-এর বাইরে পরপর পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। সালমান খানের বাড়ির ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিশ বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পাঁচ অভিযুক্ত—ভিকি গুপ্তা, সাগর পাল, হরপাল সিং, সোনুকুমার বিষ্ণোই এবং মোহাম্মদ রফিক চৌধুরীকে গ্রেফতার করে, যাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিচারপ্রক্রিয়া চলমান। ওই মামলায় যুক্ত অনুজ কুমার থাপান নামে অপর এক অভিযুক্ত ২০২৪ সালের মে মাসে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
