আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ পেতে আলোচনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছে সংস্থাটি। আগামী ২৩ অক্টোবর আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরের কথা রয়েছে। এর আগে এনবিআরের পাঠানো রাজস্ব পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে আগামী অর্থবছরে রাজস্ব বাড়ানোর কৌশল ও কর্মপরিকল্পনায় ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে আইএমএফ।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে কোন কোন খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা হবে, করজাল কীভাবে সম্প্রসারণ করা হবে এবং রাজস্ব প্রশাসনের অটোমেশনে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে— এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এনবিআরের প্রতিবেদনে নেই। এ কারণে প্রতিবেদনটিকে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করেনি আইএমএফ। তাই মিশন ঢাকায় আসার আগেই রাজস্ব পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা চলছে। এজন্য এনবিআরের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ বিভাগ।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কীভাবে রাজস্ব আদায় বাড়াবে, তার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চেয়েছিল আইএমএফ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন সংস্থাটির কাছে পাঠায়। তবে এতে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিস্তারিত থাকলেও আগামী অর্থবছরের রাজস্ব কৌশল যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
এনবিআরের প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরা হলেও আগামী অর্থবছরে অতিরিক্ত রাজস্ব কীভাবে আদায় করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি নেই। নতুন রাজস্বের সম্ভাব্য খাত চিহ্নিতকরণ, নতুন করদাতা শনাক্তকরণ, করজাল সম্প্রসারণে আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং ডিজিটাল অটোমেশনের সময়সীমা নিয়েও বিস্তারিত পরিকল্পনা দেওয়া হয়নি। সূত্র জানায়, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় প্রতিবেদনটি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছে আইএমএফ। এ বিষয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়কে তাদের মতামত জানানো হয়েছে।
এদিকে আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আইএমএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রাথমিক আলোচনা হতে পারে। এর পর ২৩ অক্টোবর আইএমএফের টেকনিক্যাল ও ফাইন্যান্সিয়াল মিশন ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। ওই সফরে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি ও এর শর্ত নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
ফলে মিশন আসার আগে রাজস্ব পরিকল্পনার ঘাটতি পূরণ করাই অর্থ বিভাগ ও এনবিআরের অন্যতম প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থ বিভাগের আসন্ন বৈঠকে নতুন করদাতা শনাক্তকরণ, কর ফাঁকি কমানো, করজাল সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব প্রশাসনের অটোমেশনের মতো বিষয়কে পরিকল্পনায় যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো পরিকল্পনা নিয়ে আইএমএফের কোনো অসন্তোষ আসেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
