পেসারদের দাপটের দিনে অস্ট্রেলিয়ার শতরানের লিড

খেলা স্লাইড

ম্যাকাইতে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ব্যাটিং ধসে মাত্র ৬৪ রানেই অলআউট নাজমুল হোসেন শান্তর দল। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এটি চতুর্থ সর্বনিম্ন রানের ইনিংস লাল সবুজদের। তবে বল হাতে লড়াইটা জমিয়ে তুলেছেন পেসার শরীফুল ইসলাম। তার প্রথম ফাইফারে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে দিন শেষ করেছে লাল সবুজরা।

শনিবার (২২ আগস্ট) ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিন শেষে ১০১ রানের লিড অস্ট্রেলিয়ার। ৮ উইকেটে হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ১৬৫ রান। ক্যামেরন গ্রিন ৫১ আর নাথান লায়ন ১০ রানে অপরাজিত রয়েছেন। টাইগারদের পক্ষে শরীফুল একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।

এদিন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই মিচেল স্টার্কের তোপে পড়ে শান্তর দল। রানের খাতা খোলার আগেই ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সাদমান ইসলাম। শূন্য রানে ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক শান্তও। মুমিনুল হক ৯ রান করলেও ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি। এরপর লিটন দাসও ডাককে সঙ্গীকে করে বিদায় নেন। পাঁচ জনকেই একাই শিকার করেন স্টার্ক।

১২ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে যে বিপর্যয়ে পড়েছির লাল সবুজরা, সেখান থেকে উদ্ধার করতে পারেননি অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। তিনি ৪২ বলে ৫ রান করে বোল্ড হন। ৫১ বলে ১১ রান করে বিদায় নেন দলের শেষ জাত ব্যাটার মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনকেই ফেরান প্যাট কামিন্স। ততক্ষণ পর্যন্ত দলের রান ছিল ৭ উইকেটের বিনিময়ে ৩৬। টেলএন্ডারদের কল্যাণে শেষ পর্যন্ত দলের সংগ্রহ পৌছাঁয় ৬৪ রানে। হাসান মাহমুদ ১০ আর শরীফুল ইসলাম দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন। ১১ রানে অপরাজিত থাকেন তাইজুল ইসলাম।

অজিদের পক্ষে মাত্র ১২ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নেন স্টার্ক। কামিন্স নেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট।

ব্যাটিং ধসে ম্যাকাইতে বাজে হারের ইঙ্গিত দিলেও বল হাতে ভালোই জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ইনজুরি থেকে ফেরা শরীফুল লিখেছেন দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প। ট্রাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেনকে একই ওভারে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দেন শরীফুল। এরপর স্টিভ স্মিথকেও এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে ফেরান বাঁহাতি এই পেসার। ৭৪ বলে ৪২ রান করেন স্মিথ। পরে বিউ ওয়েবস্টারকেও এলবিডব্লিউ করে নিজের পঞ্চম উইকেট পূর্ণ করেন শরীফুল।

অস্ট্রেলিয়ার শুরুটাও স্বস্তির ছিল না। তাসকিন আহমেদের বলে ১০ বলে ৮ রান করে আউট হন সাড়ে তিন বছর পর টেস্টে ফেরা ম্যাট রেনশ। এরপর অ্যালেক্স ক্যারিকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। ফলে দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

তবে স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের জুটি কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল স্বাগতিকদের। ১০৮ বলে ৭৭ রান যোগ করেন তারা। স্মিথের বিদায়ের পর অবশ্য সেই জুটিও ভেঙে যায়। শেষদিকে নাথান লায়নকে নিয়ে ব্যক্তিগত ফিফটির মাইলফলক স্পর্শ করেন গ্রিন। এ জুটিতে দিনের শেষভাগও নিরাপদে পার করে নেয় অজিরা। ঘুরে দাঁড়াতে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই গ্রিনকে সাজঘরে ফেরানোর বিকল্প নেই টাইগারদের।

এদিকেদেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম হিসেবে একটি কীর্তি গড়েছেন শরীফুল। এগারো নম্বরে নেমে দলের সর্বোচ্চ রান আর কমপক্ষে পাঁচ উইকেট পাওয়া প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার তিনি।

এর আগে ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *