জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডে নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) ও ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নতুন এমডি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কাইজার সোহেল আহমেদ এবং দীর্ঘদিন শূন্য থাকা ডিএমডি পদে নিয়োগ পেয়েছেন সৈয়দ মইন উদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চুক্তিভিত্তিক ভিত্তিতে তাদের উভয়কে এক বছরের জন্য এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, কাইজার সোহেল আহমেদকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। তবে এ দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি, আধা-সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে থাকা কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। এই শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তিনি বিমানের সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
একইভাবে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) পদে সৈয়দ মইন উদ্দিন আহমেদকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তাকেও দায়িত্ব গ্রহণের আগে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা ত্যাগ করতে হবে। এরপরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ডিএমডি পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য ছিল। বিভিন্ন সময় এই পদে নতুন নিয়োগের আলোচনা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য অবস্থায় ছিল। নতুন নিয়োগের মাধ্যমে সেই শূন্যতা পূরণ হলো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সৈয়দ মইন উদ্দিন আহমেদের কর্মজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে। তিনি ২০০৭ সালে বিমানের সহকারী ব্যবস্থাপক (অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার) পদে কর্মরত অবস্থায় স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করেন। বর্তমানে তাকে আবারও দেশের জাতীয় বিমান সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
অন্যদিকে কাইজার সোহেল আহমেদকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে সংস্থাটির শীর্ষ নেতৃত্বে নতুন পরিবর্তন এলো। বিমান পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা সংস্কার, সেবার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার নেতৃত্বে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় বিমান সংস্থাকে আরও কার্যকর, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যেই এই নতুন নেতৃত্ব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এমডি ও ডিএমডির নেতৃত্বে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসনিক ও কার্যক্রমগত দক্ষতা আরও বাড়বে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সাম্প্রতিক সময়ে বহর বৃদ্ধি, নতুন রুট চালু এবং সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে সংস্থাটিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। নতুন নেতৃত্ব সেই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
