২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব: রাষ্ট্রপতি

জাতীয় স্লাইড

সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও তরুণদের অদম্য শক্তিতে ২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন সফল করতে সক্ষম হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট’-এর উদবোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে বলেন, পুরো বিশ্ব আজ এক অভূতপূর্ব মহা পরিবর্তনের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে, যার মূল চালিকাশক্তি ও অনুষঙ্গ হিসেবে সামনে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)। আগামী দিনের বিশ্ব অর্থনীতি ও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা অনেকাংশেই নির্ধারণ করে দেবে এই প্রযুক্তি। তাই এখন থেকেই এই আধুনিক প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে গ্রহণ ও তার ইতিবাচক ব্যবহারের দিকে নজর দিতে হবে।

তবে প্রযুক্তির বিপ্লবের পাশাপাশি এর ঝুঁকির দিকটি নিয়েও সতর্কবার্তা দেন রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন যে, মানুষের সুবিধার জন্য প্রযুক্তি তৈরি হলেও এআই যেন কখনো মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার পর্যায়ে না পৌঁছায়। যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষকে পরিচালিত বা নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তবে মানবজাতির পুরো সভ্যতা এক গভীর সংকটের মুখে পতিত হবে। ফলে মানবকল্যাণ ও নৈতিকতার সীমানার মধ্যেই একে ধরে রাখা জরুরি।

দেশের তরুণ সমাজকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মূল শক্তি ও কাণ্ডারি হিসেবে আখ্যায়িত করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে তিনি ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেবল ব্যবসায়ের পরিচালনা ব্যয় কমানো বা কর্মী ছাঁটাইয়ের হাতিয়ার হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটিকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনী পণ্য তৈরি, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং নতুন কর্মসংস্থান গড়ে তোলার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

দেশের অবকাঠামো ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রসঙ্গে আলোকপাত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতি ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের সাথে সুর মিলিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশে চীনা বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়বে, যা দেশের শিল্প খাত ও কর্মসংস্থানে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

তরুণদের মেধা, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ এবং এআইয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয় ঘটাতে পারলে ২০৩৪ সালের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার আগেই ট্রিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী অর্থনীতির মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব হবে বলে সমাপনী বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *