হাদি হত্যার আসামি ও হাসিনাকে দ্রুত ফেরতের দাবি বাংলাদেশের

জাতীয় স্লাইড

 

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত সারতে ভারতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফিরিয়ে দিতেও আর্জি জানানো হয়েছে। সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে এসব অনুরোধ জানানো হয় বলে জানিয়েছেন সরকারপ্রধানের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।

তিনি বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ আশা করে, ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে। একই সঙ্গে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়।

ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ঢাকা বারবার তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে। ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে।

আর গত বছরের ডিসেম্বরে গুলিতে ওসমান হাদি নিহত হওয়ার আড়াই মাস বাদ প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেন ধরা পড়েন পশ্চিমবঙ্গে। এরপর থেকে তাদের ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এদিন বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সাক্ষাতের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

উপ প্রেস সচিব স্বাধীন বলেন, দুই দেশের দ্বি-পাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দুই দেশের এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, ভারতের নতুন হাই কমিশনারকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী। ঢাকায় গেল দুই মাসের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন ত্রিবেদী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *