হরমুজ প্রণালী বন্ধে তেলের দাম ১০% বাড়ল

হরমুজ প্রণালী বন্ধে তেলের দাম ১০% বাড়ল

আন্তর্জাতিক স্লাইড

 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রতি ব্যারেলের দাম শিগগিরই ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তেল ব্যবসায়ীরা জানান, রোববার (১ মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইসিআইএস-এর জ্বালানি ও পরিশোধন বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলা দামের ঊর্ধ্বগতিতে ভূমিকা রাখলেও মূল কারণ হচ্ছে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া।

বাণিজ্যিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের সতর্কবার্তার পর অধিকাংশ ট্যাঙ্কার মালিক, বড় তেল কোম্পানি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের ২০ শতাংশেরও বেশি এই জলপথের মাধ্যমে হয়ে থাকে। অজয় পারমার বলেন, সপ্তাহের শুরুতে বাজার খোলার পর তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে। আর প্রণালীটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েও যেতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা ওয়াশিংটনকে আগেই সতর্ক করেছিলেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে নিয়ে যেতে পারে। এদিকে ওপেক প্লাস গ্রুপ রোববার জানিয়েছে, তারা এপ্রিল থেকে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়াবে। যা বৈশ্বিক চাহিদার ০.২ শতাংশেরও কম।

জ্বালানি গবেষণার সংস্থা রাইস্ট্যাড এনার্জির অর্থনীতিবিদ জর্জ লিওন জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প পথ (যেমন সৌদি আরব বা আবুধাবির পাইপলাইন) ব্যবহার করলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা দেবে। রাইস্ট্যাডের মতে, বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে দাম ২০ ডলার বেড়ে প্রায় ৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে।ইরান সংকটের ফলে এশীয় দেশগুলোর সরকার এবং শোধনাগারগুলো এখন তাদের তেলের মজুত খতিয়ে দেখছে। তারা বিকল্প শিপিং রুট ও সরবরাহের পথ খুঁজছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *