ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালানোর ইঙ্গিত ইরানের

আন্তর্জাতিক স্লাইড

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করার কথা ভাবতে পারে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধানের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এ কথা জানিয়েছেন।

ইরানের লক্ষ্য হলো দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এমন ক্ষয়ক্ষতির চাপ তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশ ইরানে হামলা চালানোর আগে এর সম্ভাব্য মূল্য নিয়ে চিন্তা করে—বলেন আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি। মঙ্গলবার পিবিএস নিউজআওয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাকদি বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা ইরানের জন্য একটি কৌশল হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াইয়ে ইরান আরো অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং ভবিষ্যতে হামলা ঠেকানোর মতো প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হবে। তিনি বলেন, একটি উপায় হলো প্রেসিডেন্টের পরবর্তী মেয়াদ পর্যন্ত এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা এবং ক্ষয়ক্ষতির চাপ তৈরি করা।

এতে অন্য কেউ ইরানে হামলা করতে চাইলে তারা বুঝবে, এর একটি মূল্য দিতে হবে।

নাকদির এই বক্তব্য থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত কত দিন চলতে পারে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট একটি ইঙ্গিত পাওয়া গেল। এর আগে ইরানের কোনো জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সরাসরি যুদ্ধের সময়সীমাকে ট্রাম্পের বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছেন কি না, তা স্পষ্ট ছিল না। ইরানের লক্ষ্য ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে নাকদি বলেন, তেহরানের মূল লক্ষ্য হলো এমন প্রতিরোধ তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শত্রু ইরানে হামলা করার সাহস না পায়।

তিনি বলেন, ইরান বর্তমানে মনে করছে তারা যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি।

নাকদির ভাষ্য, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়ে ইরান তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এমন ক্ষয়ক্ষতির চাপ তৈরি করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা ঠেকাতে কাজে লাগবে। নাকদি বলেন, চলমান সংঘাত থেকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা পেয়েছে।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ইরান আগে যতটা শক্তিশালী মনে করত, বাস্তবে দেশটির সামরিক সক্ষমতা তার চেয়ে কম বলে তারা দেখতে পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নাকদি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, ইরান বর্তমানে প্রতিদিন যত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারছে। নাকদি বলেন, ইরানের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ফলে যুদ্ধ কয়েক বছর ধরে চললেও ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যেতে পারবে বলে তিনি দাবি করেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত একসময় শেষ হয়ে গেলেও দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরো বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন নাকদি।

তিনি বলেন, যদি এমন দিন আসে, যেদিন ইরানের আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট থাকবে না, তখনই আমরা আমেরিকার জন্য আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠব। ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরান কিভাবে আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠবে- এমন প্রশ্নের জবাবে নাকদি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব অর্থনৈতিক স্বার্থ সহজেই ধ্বংস করা যেতে পারে। তবে কোন কোন অর্থনৈতিক স্থাপনা বা স্বার্থের কথা তিনি বলছেন, তা বিস্তারিত জানাননি নাকদি। একইভাবে ইরান কিভাবে এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে পারে, সে বিষয়েও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *