এডিবির নামে ভুয়া ঋণ প্রতারণা, সতর্কতা জারি

অর্থনীতি স্লাইড

 

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নাম, লোগো, কর্মকর্তাদের পরিচয় এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ব্যবহার করে ভুয়া ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি প্রতারণামূলক চক্র সক্রিয় হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক এই উন্নয়ন সংস্থাটি। সোমবার ঢাকায় পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি জানিয়েছে, তাদের পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত কোনো ভুয়া ঋণ, অনুদান বা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাবের সঙ্গে সংস্থাটির কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। এমন প্রতারণামূলক যোগাযোগে সাড়া না দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাতে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে এডিবি।

বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সংস্থাটি কখনোই কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি ঋণ, অনুদান বা আর্থিক সহায়তা প্রদান করে না। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা গ্রাহকের কাছ থেকে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়ার অনুরোধও করে না। যদি কেউ এডিবির পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের দাবি করে, তবে সেটিকে প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

এডিবি জানিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে এমন তথ্য তাদের নজরে এসেছে, যেখানে প্রতারক চক্র সংস্থাটির নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এসব চক্র অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নকল ওয়েবসাইট তৈরি করছে, ভুয়া ফেসবুক পেজ পরিচালনা করছে এবং এডিবির কর্মকর্তাদের নামে জাল পরিচয়পত্র, ভুয়া নিয়োগপত্র, নকল অনুমোদনপত্র ও বিভিন্ন ধরনের জাল কাগজপত্র ব্যবহার করছে। এসব উপকরণ দেখিয়ে মানুষকে বিশ্বাস করানো হচ্ছে যে, তারা এডিবির পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ঋণ বা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

প্রতারকরা অনেক ক্ষেত্রে দাবি করছে, নির্দিষ্ট একটি নিবন্ধন ফি, প্রসেসিং চার্জ, নিরাপত্তা জামানত, কর, বীমা ফি অথবা অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় পরিশোধ করলেই বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করা হবে। এজন্য তারা বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা অথবা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানোর নির্দেশনা দিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যও সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। এডিবি বলছে, এসব কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক এবং এর সঙ্গে সংস্থাটির কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি এডিবির নামে ঋণ, অনুদান কিংবা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়, তাহলে সেটি যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। একই সঙ্গে কোনো ধরনের ফি, চার্জ বা অগ্রিম অর্থ পরিশোধ থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এডিবি। সন্দেহজনক কোনো যোগাযোগ, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ বা বার্তা পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে আনারও অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এডিবির সব ধরনের কার্যক্রম স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হয়। সংস্থাটি সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় কাজ করে থাকে। ব্যক্তি পর্যায়ে সরাসরি ঋণ বিতরণ, অনুদান অনুমোদন বা অর্থ সহায়তার নামে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা এডিবির নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে কোনো ব্যক্তি যদি নিজেকে এডিবির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ঋণ বা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেন, তবে সেটিকে প্রতারণার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

এডিবি জানিয়েছে, তাদের নাম, লোগো, কর্মকর্তাদের পরিচয় কিংবা অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করে পরিচালিত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তারা নিয়মিত নজরদারি করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। পাশাপাশি জনসাধারণকে সচেতন করতেও বিভিন্ন সময়ে সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হচ্ছে, যাতে কেউ প্রতারণার ফাঁদে পা না দেন।

সংস্থাটি আরও বলেছে, বর্তমান সময়ে অনলাইনভিত্তিক আর্থিক প্রতারণার ঘটনা বিশ্বজুড়েই বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে প্রতারকরা মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করছে। তাই যেকোনো আর্থিক প্রস্তাব গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরকারি উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রস্তাব যদি অতিরিক্ত আকর্ষণীয় বা অস্বাভাবিক মনে হয়, তাহলে সেটি নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত।

এডিবির প্রকাশিত সতর্কবার্তায় সংস্থাটির নাম ব্যবহার করে পরিচালিত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এবং কীভাবে এ ধরনের প্রতারণা এড়িয়ে চলা যায়, সে সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার পাশাপাশি পরিচিতজনদেরও এ বিষয়ে সতর্ক করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দারিদ্র্য হ্রাস, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করে আসছে। বর্তমানে সংস্থাটির সদস্য দেশ রয়েছে ৬৯টি। এর মধ্যে ৫০টি দেশ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এবং বাকি সদস্যরা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে অবকাঠামো, জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, পানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও বেসরকারি খাতের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে এডিবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *