শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে ২০ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

অর্থনীতি স্লাইড

চলমান পোশাক শ্রমিক আন্দোলনে ইন্ধন যোগানো, অর্থায়ন ও সরাসরি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ মোট ২০ বিশিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গোয়েন্দা পর্যালোচনার ভিত্তিতে ইতিমধ্যে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকে এই স্থগিতাদেশের জরুরি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, জব্দকৃত ব্যাংক হিসাবের তালিকায় দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপের মালিক, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর নাম রয়েছে। মূলত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভোগকারী অন্তত ১২টি বড় শিল্প গ্রুপের মালিক চলমান তৈরি পোশাক খাতের অসন্তোষ ও সহিংসতায় অর্থ যোগান দিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে। এই অনৈতিক অর্থায়ন ও ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত খতিয়ে দেখতেই হিসাব ফ্রিজের এই কঠোর নির্দেশ জারি করা হয়।

উল্লেখ্য, নূন্যতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি পুনর্নির্ধারণসহ নানা দাবিতে এক সপ্তাহ আগে রাজপথে নামেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। কিন্তু দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই সাধারণ আন্দোলন সহিংস রূপ নিতে শুরু করে। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির মুখে ইতোমধ্যে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ‘মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে মূল আন্দোলনের যৌক্তিকতা শেষ হলেও শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিশৃঙ্খলা থামছে না। তদন্তে দেখা গেছে, সাধারণ শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে মোড় ঘুরানোর চক্রান্ত চলছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জের পোশাক শিল্পাঞ্চলগুলোতে ন্যায্য পাওনার আন্দোলনের আড়ালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর অনুপ্রবেশ ঘটেছে। বিশেষ করে গাজীপুর অঞ্চলে আওয়ামীপন্থি ব্যবসায়ীদের মালিকানাধীন অন্তত ১০টি পোশাক কারখানা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে আন্দোলন উসকে দিতে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছিল।

স্বয়ং পোশাক শ্রমিকদের বক্তব্যেও এই পরিস্থিতির সত্যতা মিলেছে। অনেক সাধারণ শ্রমিক জানিয়েছেন, তারা নিয়ম মেনে কারখানায় কাজে ফিরতে চাইলেও একটি সুনির্দিষ্ট দল ও বাইরের উস্কানিদাতারা তাদের জোরপূর্বক রাজপথে নামতে বাধ্য করছে। এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, রাজপথে আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক সাধারণ শ্রমিকই আদতে জানেন না যে তাদের কেন সেখানে আনা হয়েছে বা আন্দোলনের আসল লক্ষ্য কী।

ইতিমধ্যে তৈরি পোশাক খাতের স্থায়িত্ব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। সাধারণ শ্রমিকের ছদ্মবেশে রাজপথে নেমে নাশকতামূলক তৎপরতা চালানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিশৃঙ্খলা রোধে শিল্পাঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *