জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অনুবিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। কাজের গতিশীলতা বাড়াতে এবং রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করতে একযোগে ৯২ জন রাজস্ব কর্মকর্তাকে (আরও) পদোন্নতি দিয়ে সহকারী কমিশনার (নন-ক্যাডার) পদে পদায়ন করা হয়েছে।
রোববার এনবিআর থেকে জারি করা পৃথক একটি প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, কাস্টমস ও ভ্যাট অনুবিভাগে কর্মরত এ ৯২ জন রাজস্ব কর্মকর্তাকে জ্যেষ্ঠতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে সহকারী কমিশনার পদে ‘চলতি দায়িত্ব’ প্রদান করা হলো।
পদোন্নতির ধরন ও পদায়ন
সাধারণত ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়মিত পদোন্নতির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কাজের সুবিধার্থে এই চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই সকল রাজস্ব কর্মকর্তা আপাতত সহকারী কমিশনার হিসেবে তাঁদের নিজ নিজ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্ধারিত শর্তাবলী
এনবিআরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সহকারী কমিশনার পদে এই পদোন্নতি সম্পূর্ণ শর্তসাপেক্ষ। কর্মকর্তাদের যেসকল বাধ্যতামূলক শর্ত মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো:
- বর্তমান কর্মস্থলে বহাল: পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ বর্তমান কর্মস্থলেই পদায়িত থাকবেন এবং আগের অধিক্ষেত্রেই দায়িত্ব সামলাবেন।
- সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতা: চলতি দায়িত্বে থাকার কারণে কোনো কর্মকর্তা উচ্চতর পদে স্থায়ী পদোন্নতির সুবিধা বা আইনগত অধিকার দাবি করতে পারবেন না।
- স্থায়ী পদের মর্যাদা নয়: এই কর্মকর্তারা পদোন্নতি পাওয়া পদে স্থায়ী পদধারীর সমান মর্যাদা দাবি করার সুযোগ পাবেন না। দাপ্তরিক নথিপত্র, পরিচয় ও পদবীর পাশে বাধ্যতামূলকভাবে ‘চলতি দায়িত্ব’ কথাটি উল্লেখ করতে হবে।
- আর্থিক ভাতা: বিধিমালা অনুযায়ী চলতি দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে প্রাপ্য প্রয়োজনীয় ভাতা তাঁরা নিয়মিতভাবে পাবেন।
- আদেশ বাতিলের এখতিয়ার: জ্যেষ্ঠতা, শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা অন্য যেকোনো ধরনের প্রশাসনিক অভিযোগ উত্থাপিত হলে কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকেই এই চলতি দায়িত্ব যেকোনো সময় প্রত্যাহার করতে পারবে। পদোন্নতি প্রাপ্ত কর্মকর্তা তখন সরাসরি তাঁর পূর্বের পদে (রাজস্ব কর্মকর্তা) প্রত্যাবর্তিত হবেন।
প্রজ্ঞাপনের শেষাংশে রাজস্ব বোর্ড স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, প্রশাসনিক স্বার্থে বা যেকোনো প্রয়োজনে এনবিআর কর্তৃপক্ষ যেকোনো মুহূর্তে এই চলতি দায়িত্বের আদেশ পরিবর্তন বা পুরোপুরি বাতিল করার পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে।
