কন্টেইনার জট কমাতে এনবিআরের কাছে সিপিএর চিঠি

অর্থনীতি স্লাইড

 

খালি কন্টেইনারের জট কমাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়াই শিপিং এজেন্ট ও মেইন লাইন অপারেটরদের উপযুক্ত স্থানে কন্টেইনার সংরক্ষণের অনুমতি দেওয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে আবারও অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২৬ জুলাই এনবিআর চেয়ারম্যানকে পাঠানো চিঠিতে সিপিএ উল্লেখ করেছে, বর্তমান বিধিনিষেধের কারণে বন্দরে কন্টেইনার জট বাড়ছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সিপিএ জানায়, এ বিষয়ে প্রথম ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর এনবিআরকে চিঠি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে এনবিআর বা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, তাও বন্দর কর্তৃপক্ষের জানা নেই। সিপিএর সচিব সাইয়েদ রিফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে সব আমদানি করা এলসিএল পণ্য আনস্টাফিংয়ের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় এবং প্রায় ৭০ শতাংশ এফসিএল কন্টেইনারও খালাসের জন্য খোলা হয়, যার ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ খালি কন্টেইনার জমা হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এসব খালি কন্টেইনার জাহাজে রপ্তানি বা ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোতে (আইসিডি) পাঠানোর অপেক্ষায় বন্দরের ভেতরেই পড়ে থাকে। কিন্তু প্রতিদিন যত কন্টেইনার খালি হচ্ছে, তার তুলনায় অনেক কম সংখ্যক কন্টেইনার বন্দর থেকে সরানো সম্ভব হচ্ছে। এতে বন্দরের ভেতরে খালি কন্টেইনারের স্তূপ তৈরি হচ্ছে এবং কার্যক্রম পরিচালনায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। চিঠি অনুযায়ী, আমদানিকারকরা পণ্য খালাস করার পর এফসিএল কন্টেইনারগুলো বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতেও জমা হচ্ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খালি কন্টেইনারের দায়িত্ব শিপিং এজেন্ট ও মেইন লাইন অপারেটরদের ওপর থাকলেও এনবিআরের বর্তমান বিধান অনুযায়ী বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স ছাড়া দেশের কোথাও এসব কন্টেইনার স্থানান্তর বা সংরক্ষণ করা যায় না। চিঠিতে আরও বলা হয়, এ নিয়মটি অনেক প্রতিবেশী দেশের তুলনায় ভিন্ন, যেখানে শিপিং এজেন্ট ও এমএলওরা বন্ড সুবিধা ছাড়াই নিজেদের ব্যবস্থাপনায় উপযুক্ত যেকোনো স্থানে খালি কন্টেইনার সংরক্ষণ করতে পারে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা হলে বন্দর ও কন্টেইনার ডিপোগুলোর ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি শিপিং লাইনগুলোকে বন্ডের বাইরে খালি কন্টেইনার সংরক্ষণের সুযোগ দিলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং ব্যবহারকারীরা আরও নির্বিঘ্ন সেবা পাবেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সাইয়েদ রিফায়েত হামিম এনবিআরের কাছে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে গতি আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *