সৌদিগামী ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল, ২৩ হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে

জাতীয় স্লাইড

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে ফ্লাইট চলাচলে তীব্র বিধিনিষেধ আরোপ করায় মারাত্মক সংকটে পড়েছে ঢাকা-সৌদি রুট। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের অন্তত ১৫৯টি ফ্লাইট বাতিল এবং স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সৌদি আরবগামী ২২ হাজার ৭২১ জনেরও বেশি প্রবাসী ও বিমানযাত্রী। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানোর পাশাপাশি ফ্লাইট সূচি পুনর্নির্ধারণের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ১১ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী কর্তৃক সরাসরি হামলার পর থেকেই পুরো দেশের আকাশসীমা ও বিমানবন্দরগুলোয় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। হামলার পরপরই রিয়াদ বিমানবন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এর জের ধরে সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মাম অভিমুখে নিজেদের সকল নির্ধারিত ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। একইভাবে দেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সও ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে সৌদির আকাশসীমায় প্রবেশ ও বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানা কঠোর আইনকানুন বহাল থাকায় পূর্বনির্ধারিত স্বাভাবিক ফ্লাইট সিডিউল মারাত্মকভাবে ধসে পড়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মোট ১১টি বিশিষ্ট এয়ারলাইন্সের রুট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাতিলের তালিকা:

  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স: ৩৭টি ফ্লাইট
  • ইন্ডিগো এয়ার (IndiGo): ৩০টি ফ্লাইট
  • সৌদিয়া এয়ারলাইন্স (Saudia): ২০টি ফ্লাইট
  • রিয়াদ এয়ারওয়েজ (Riyadh Air): ১৫টি ফ্লাইট
  • এমিরেটস এয়ারলাইনস (Emirates): ১৪টি ফ্লাইট
  • ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স (US-Bangla): ১০টি ফ্লাইট
  • কাতার এয়ারওয়েজ (Qatar Airways): ৯টি ফ্লাইট
  • ফ্লাই দুবাই (Flydubai): ৮টি ফ্লাইট
  • এয়ার ইন্ডিয়া (Air India): ৮টি ফ্লাইট
  • সালাম এয়ার (SalamAir): ৭টি ফ্লাইট
  • ইজিপ্ট এয়ার (EgyptAir): ১টি ফ্লাইট

যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তা

উদ্বেগজনক এই ফ্লাইট বাতিলের কারণে সবচেয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন সৌদি আরবে অবস্থানরত বা সেখানে কর্মরত বাংলাদেশী প্রবাসীরা। ২২ হাজার ৭২১ জনেরও বেশি নিবন্ধিত যাত্রী এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হোটেল ও বাসাবাড়িতে আটকা পড়ে আছেন। তাঁদের একটি বড় অংশেরই ভিসার মেয়াদ, আকামার মেয়াদ কিংবা রি-এন্ট্রি পারমিটের সময় শেষ হয়ে আসছে। নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে না পৌঁছাতে পারলে অনেকেরই চাকরি হারানোর ভয় দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন শত শত যাত্রী ভিড় জমিয়ে সঠিক তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছেন, ফলে তৈরি হচ্ছে চরম বিশৃঙ্খলা ও মানবিক দুর্ভোগ।

উদ্ভূত সংকট কাটিয়ে উঠতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) কাজ করে যাচ্ছে। এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমার এই নিরাপত্তা ঝুঁকি ও পরিবর্তিত পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে অতি দ্রুত আটকে পড়া বিশালসংখ্যক যাত্রীদের বিকল্প রুটে বা বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়, তার সিডিউল পুনর্নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আটকে পড়া যাত্রীদের টিকিটের পুনর্বিন্যাস (Rebooking) করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *