দুর্গাপূজার ছুটিতে বিশেষ ট্রেন ও বাস চালু আজ

জাতীয় স্লাইড

দুর্গাপূজার ছুটি ঘিরে দেশজুড়ে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও চাপমুক্ত রাখতে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে আজ থেকে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সরাসরি নির্দেশনায় এই বিশেষ ট্রেন সার্ভিস বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

রেলপথের পাশাপাশি সড়কপথে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে আজ থেকে মাঠে নামছে সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সার্বিক নির্দেশনায় পরিচালিত ‘দুর্গাপূজা বিশেষ বাস সার্ভিস’ নামের এই সেবা আজ থেকে শুরু হয়ে আগামী শনিবার পর্যন্ত বহাল থাকবে। যাত্রী সাধারণ যেন আগেই নিজেদের আসন নিশ্চিত করতে পারেন, সে জন্য বিআরটিসির সারাদেশের ২২টি বাস ডিপো থেকে ইতোমধ্যে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করা হয়েছে।

বিআরটিসির দেওয়া তথ্যমতে, এই পূজাকৈন্দ্রিক বিশেষ সেবার জন্য সর্বমোট ২০০টি বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বহরে এসি, নন-এসি, একতলা ও দ্বিতল—সব ধরনের যানবাহনই রাখা হয়েছে। যাত্রীর চাপ ও চাহিদার গতিপ্রকৃতি দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী বাসের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থাটির।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশেষ বাসের বড় একটি অংশ রাজধানী ঢাকার প্রধান ডিপোগুলো এবং গাজীপুর থেকে ছাড়বে। বাসগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও শহর—যেমন রংপুর, বগুড়া, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পাবনা, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, নওগাঁ, পঞ্চগড়, ভূরুঙ্গামারী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বরিশাল, খুলনা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও চট্টগ্রামে সরাসরি যাত্রী পরিবহন করবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক চলাচলের অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তেও এই সার্ভিস চালু থাকবে। সার্ভিস সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা প্রয়োজনে বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ০২৪১০৫৩০৪২ (টেলিফোন) এবং ০১৩২৪২৯৩৯৭৪ ও ০১৭১৮১৮৩৫৮৯ (মোবাইল) নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যাত্রাপথে যেকোনো প্রকার হয়রানি রোধেও নেওয়া হয়েছে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ। মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, উৎসবে ঘরে ফেরার সময় যেন কোনো যাত্রী বাড়তি ভাড়া বা অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনার শিকার না হন। সে লক্ষ্যে টিকিটের কালোবাজারি বন্ধে আইনি ব্যবস্থা, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং টোল প্লাজাগুলোতে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথের সব সংস্থাকে যৌথ ও সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে কাজ করার প্রতি জোর দিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *