নীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক, প্রস্তাবনা তৈরি এবং নীতিনির্ধারকদের মুখোমুখি হওয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদের এলডি হলে শেষ হলো দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ (বিওয়াইএমইউএন ২০২৬)। ‘ফিউচার বাংলাদেশ’ আয়োজিত এই সম্মেলনটি জাতীয় সংসদের এলডি হলে অনুষ্ঠিত প্রথম মডেল ইউএন সম্মেলন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে। ‘নীতি ও তারুণ্যের সংযোগ’ স্লোগানে এবং ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তারুণ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে কৃষি উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের সব বিভাগ থেকে আসা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা জাতিসংঘ ও জাতীয় সংসদের আদলে গড়া ছয়টি কমিটিতে নীতি সংস্কার ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে বিতর্ক ও আলোচনা করেন।
সম্মেলনের প্রথম দিন শুক্রবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য ও পাল্টা যুক্তি থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিটি কণ্ঠ শুনতেই হবে। শুধু জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক না হয়ে মেধা ও ভাবনাকে ইতিবাচক কাজে লাগাতে হবে।” একই সাথে তরুণদের উচ্চশিক্ষা শেষে দেশসেবায় ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
উদ্বোধনী দিনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন একটি বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দেশজুড়ে মডেল ইউএন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাছাই করা সেরা তরুণদের সরকারি অর্থায়নে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠানো হবে, যাতে তারা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। আগামী বছর থেকে বিওয়াইএমইউএন-এর প্রস্তাবনাগুলো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নে সরকার সব সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
উদ্বোধনী পর্বে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আবদুল আউয়াল, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড এবং সম্মেলনের মহাপরিচালক মো. আসিফুজ্জামান। মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মোক্তাদির রায়হান সম্মেলনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
দ্বিতীয় দিনের সকালের অধিবেশনে জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধি একেএম ওয়াহিদুজ্জামান যোগ দিয়ে তরুণ প্রতিনিধিদের কীভাবে গঠনমূলক প্রস্তাব তৈরি করতে হয় সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
শনিবার সন্ধ্যায় সমাপনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ তরুণদের জানুন, সক্রিয় হওয়ার এবং গঠনমূলক প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানিয়ে সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। এ সময় সময় টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের বাবু দায়িত্বশীল মুক্ত সাংবাদিকতার তাৎপর্য তুলে ধরেন।
আয়োজনের বিষয়ে ফিউচার বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক রেদোয়ান আহমেদ জানান, সম্মেলন শেষেও যেন তরুণদের ভাবনার চর্চা অব্যাহত থাকে এবং তারা নিজস্ব পরিমণ্ডলে নেতৃত্ব দিতে পারে, সেটাই এই আয়োজনের মূল সাফল্য।
উল্লেখ্য, ফ্ল্যাগশিপ কমিটি ‘জাতীয় সংসদ’ ছাড়াও এফএও, ইউএনডিপি, ইকোসক, ইউনিসেফ ও ইন্টারন্যাশনাল প্রেস—এই ৬টি কমিটিতে তরুণরা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্মেলনের প্ল্যাটিনাম স্পন্সর ছিল এসএসএল, মিডিয়া পার্টনার সময় টিভি, ডিজিটাল মিডিয়া পার্টনার দ্য ফ্রন্ট পেজ, প্রিন্ট মিডিয়া পার্টনার দৈনিক যুগান্তর এবং হসপিটালিটি পার্টনার কায়া ঢাকা।
