ইউক্রেনে হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরানের প্রতি রাশিয়ার সমর্থন অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের দুদিনের সম্মেলনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন পুতিন।
মঙ্গলবার নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। পুতিনের বক্তব্য এমন একসময়ে এলো, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়পক্ষই একে অপরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। গত কয়েক মাসে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জাহাজ ও ই-কমার্সের গুদামসহ বিভিন্ন স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পেট্রোল সংকট দেখা দিয়েছে এবং দেশটির অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।
পুতিনের দাবি, ইউক্রেনের হামলায় ৪০ দিনে রাশিয়ার প্রায় ১০০টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে রাশিয়ার যে ক্ষতি হয়েছে, তা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশের সমান। হামলা আরও জোরদার করেছে রাশিয়াও। নতুন ধরনের জেটচালিত ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালানোর পাশাপাশি রাজধানী কিয়েভ ও কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো লক্ষ্যবস্তু করছে দেশটি। এতে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানিও হুমকির মুখে পড়েছে।
বিশকেকে পুতিন বলেন, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় ব্যাপক হামলা চালানোর নির্দেশ রুশ বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনার বিষয়েও কথা বলেছেন পুতিন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
তিনি বলেন, ‘কেউ যদি খাদ্যশৃঙ্খলে আমাদের নিচে নামিয়ে দিতে চায়, আমাদের গিলে খেতে বা গ্রাস করতে চায়, তাহলে তারা দাঁতভাঙা জবাব পেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসব হাঙরের ক্ষুধা ও দাঁত দ্রুত বাড়লেও রাশিয়া তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।’
