বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক স্লাইড

 

যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় বিশ্ববাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম। গত বুধবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে তেলের দাম কমে ৯২ মার্কিন ডলারের নেমে এসেছিল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) তা আবার ব্যারেল প্রতি ৫ ডলারের বেশি বেড়েছে। বিশ্বের তেল ও জ্বালানি পণ্যের বাজারের দরদাম প্রকাশকারী শীর্ষ ওয়েবসাইট অয়েলপ্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (বাংলাদেশ সময়) বেলা সাড়ে ১১ টায় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি উঠেছে ৯৭ ডলারে।

বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলছে, যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে সরকারি পরিশোধনাগারের উৎপাদন বন্ধের পথে। দ্বিগুণ দামে পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনতে হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আনা হতো, সেটার সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্বিগুণের বেশি দামে খোলাবাজার থেকে কেনা হচ্ছে এলএনজি। যুদ্ধবিরতির ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এটা অবশ্যই স্বস্তির খবর। আটকে থাকা ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল চলে আসছে। জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম কমতে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে। এতে আমদানি খরচ কমবে, ডলার সাশ্রয় হবে এবং ভর্তুকি কমবে। সব মিলে দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি নিয়ে আসবে।

এদিকে বিবিসির খবর বলছে, যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ববাজারে গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯২ ডলারের কাছাকাছি নেমে যায়। যদিও যুদ্ধের আগের পরিস্থিতির তুলনায় দাম এখনো বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে জ্বালানি তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল গড়ে ৭০ ডলার, যা একপর্যায়ে ১১৯ ডলারে ওঠে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বিশ্লেষকেরা বলেন, যুদ্ধবিরতির কারণে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহে এখনকার মতো সংকট থাকবে না। যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। কারণ, যুদ্ধে জ্বালানি স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংঘাত আরও বাড়ালে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঝুঁকি নিতে চাননি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আলফাসেন্সের বিশ্লেষক জ্যাভিয়ার স্মিথ বিবিসিকে বলেন, জ্বালানির দাম আরও বাড়লে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিজের পায়ে কুড়াল মারার মতো হবে। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *