আদানি চুক্তি ও সাবেক সচিব কায়কাউসের দুর্নীতি: যৌথ অনুসন্ধানে দুদক

জাতীয় স্লাইড

ভারতের বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সম্পাদিত বিতর্কিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে (পিপিএ) অনিয়ম-দুর্নীতি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব ও বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক সচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে ওঠা ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ—এই দুটি বিষয়কে একসাথে যুক্ত করে একযোগে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সেগুনবাগিচায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।

দুই তদন্ত এক সুতোয়

দুদকের এই কর্মকর্তা জানান, ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের ১৬০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসছিল। এই চুক্তিতে রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা প্রদান এবং বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে কমিশন থেকে ইতোমধ্যেই একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়, যারা নিবিড়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, বিগত সরকারের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা অন্যতম প্রভাবশালী আমলা, বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক সচিব ও পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের দায়িত্বে থাকা ড. আহমেদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ দুদকের তদারকিতে ছিল।

অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আদানি পাওয়ারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় ড. কায়কাউস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিলেন। ফলে এই দুটি অভিযোগ পৃথকভাবে দেখার বদলে পরস্পরের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন। সার্বিক সার্বিক দিক বিবেচনা করে কাজের সুবিধার্থে ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে দুদক দুটি অনুসন্ধানকে একত্রিত করে সমন্বিত বা যৌথভাবে পরিচালনা করার আদেশ দিয়েছে।

দ্রুত আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস

সংবাদ সম্মেলনে মো. আকতারুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, স্পর্শকাতর এই বিষয়টিতে রাষ্ট্রীয় আর্থিক স্বার্থ জড়িয়ে থাকায় কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সমন্বিত এই অনুসন্ধান কার্যক্রম যেন কোনো আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতায় দীর্ঘসূত্রী না হয়, সে জন্য অনুসন্ধানকারী দলকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ লেনদেন, অসদাচরণ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ মিলবে, তাঁদের পদের মর্যাদা বিবেচনায় না নিয়ে আইনের আওতায় এনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে কমিশন থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *