বলিউডের ৭ ‘বহুরূপী’ অভিনেতা

বলিউডের ৭ ‘বহুরূপী’ অভিনেতা

বিনোদন স্পেশাল

ভারতীয় চলচ্চিত্রে এমন কিছু অভিনেতা আছেন যারা কেবল পর্দায় অভিনয় করেন না, বরং চরিত্রের ভেতরে মিশে যান। রণদীপ হুদা থেকে রাজকুমার রাও—এই ‘সিনেমাটিক ক্যামেলিয়ন’ বা বহুরূপীরা বারবার প্রমাণ করেছেন যে, নিখুঁত অভিনয়ের জন্য তারা চরম শারীরিক পরিবর্তন এবং মনস্তাত্ত্বিক গভীরতায় পৌঁছাতে দ্বিধা করেন না।

নিচে বলিউডের সেই রূপবদলকারী (Shape Shifters) তারকাদের দেখে নেওয়া যাক-

১. রণদীপ হুদা: 

রণদীপ হুদা মানেই ভয়ডরহীন রূপান্তর। ‘সর্বজিৎ’ ছবিতে তার হাড় জিরজিরে কঙ্কালসার চেহারা হোক কিংবা ‘স্বাতন্ত্র্য বীর সাভারকর’ ছবিতে বিপ্লবীর চরিত্রে নিজেকে উজাড় করে দেওয়া—রণদীপ সবসময়ই মৌলিকত্ব বজায় রাখতে নিজের শরীর নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। ওজন কমানো, পেশি তৈরি বা কণ্ঠস্বর পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন- তিনি কেবল অভিনয় করেন না, চরিত্রটি হয়ে ওঠেন।

২. রাজকুমার রাও: 

রাজকুমার রাও তার চরম শারীরিক রূপান্তরের জন্য সুপরিচিত। সম্প্রতি বায়োপিক ‘নিকাম’-এর জন্য তিনি ৯-১০ কেজি ওজন বাড়িয়েছেন। এর আগে ‘ট্র্যাপড’ ছবির জন্য অবিশ্বাস্য ওজন কমানো কিংবা ‘বোস: ডেড/অ্যালাইভ’-এর জন্য আংশিক ন্যাড়া হওয়া—রাজকুমার সবসময়ই চরিত্রের প্রয়োজনে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে আসছেন।

৩. আমির খান: 

শারীরিক রূপান্তর যখন ট্রেন্ড-ই হয়নি, তখন থেকেই আমির খান এর মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ‘দঙ্গল’ ছবির জন্য কুস্তিগীরের পেশিবহুল শরীর এবং পরবর্তীতে স্থূল হওয়া, কিংবা ‘মঙ্গল পাণ্ডে’-তে লম্বা চুল ও গোঁফ—আমির সবসময়ই নিখুঁত। ‘লাল সিং চাড্ডা’ ছবিতেও শিখ চরিত্রে তার রূপসজ্জা ছিল অনবদ্য।

৪. রণবীর সিং: 

রণবীর সিং সম্ভবত বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে বহুমুখী চরিত্রের অভিনেতা। ‘পদ্মাবত’ বা ‘ধুরন্ধর’-এর জন্য পেশিবহুল শরীর থেকে শুরু করে ‘বাজিরাও মাস্তানি’র জন্য ন্যাড়া হওয়া কিংবা ‘গালি বয়’-এর স্ট্রিট র‍্যাপার লুক—প্রতিটি চরিত্রেই তিনি ভিন্ন শক্তি ও শারীরিক ভাষা নিয়ে হাজির হয়েছেন। আর কপিল দেবের বায়োপিক ‘৮৩’-এ তো তার শারীরিক ভাষা ছিল হুবহু আসল ক্রিকেটারের মতোই।

৫. আর মাধবন: 

আর মাধবন সবশেষ ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করছেন। ‘রকেট্রি: দ্য নাম্বি ইফেক্ট’ ছবিতে নাম্বি নারায়ণের চরিত্রে তার নিখুঁত রূপান্তর কিংবা ‘শয়তান’-এর রহস্যময় অভিনয় দিয়ে মাধবন প্রমাণ করেছেন যে বয়স রূপান্তরের পথে কোনো বাধা নয়। শারীরিক পরিবর্তন এবং কণ্ঠস্বরের মডুলেশনে তিনি সিদ্ধহস্ত।

৬. আদর্শ গৌরব: 

‘দ্য হোয়াইট টাইগার’ দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া আদর্শ গৌরব নিঃশব্দে নিজেকে সেরা অভিনেতাদের কাতারে নিয়ে গেছেন। তার সাম্প্রতিক ছবি ‘তু ইয়া ম্যায়’-তে নালাসোপারার একজন র‍্যাপার হিসেবে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি মুম্বাইয়ের স্থানীয় ভাষা রপ্ত করেছেন। চরিত্রের প্রয়োজনে নাক-কান ফোঁড়ানো থেকে শুরু করে অ্যাকসেন্ট বদলানো—সবই করেন তিনি।

৭. গুলশান দেবায়াহ: 

পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গুলশান কখনোই পিছপা হন না। ‘ঘোস্ট স্টোরিজ’-এ প্রোসথেটিক মেকআপের আড়ালে নিজেকে সম্পূর্ণ ঢেকে এক নরখাদক দানব হওয়া কিংবা ‘মর্দ কো দর্দ নেহি হোতা’-তে একই সঙ্গে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয়—গুলশান নিজেকে ভেঙেছেন বারবার। এমনকি হাঁটুর অস্ত্রোপচারের ধকল নিয়েও তিনি তার চরিত্রের স্বকীয়তা বজায় রেখেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *