অনলাইন শপিং পেজ, উপহার হিসেবে পাওয়া পণ্য এবং সেগুলোর প্রচার—এসব নিয়ে সম্প্রতি মিডিয়াপাড়ায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে ঘিরে শাড়ির প্রচার ও মূল্য পরিশোধ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই এবার একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করলেন অভিনেত্রী দীপা খন্দকার।
তবে বিষয়টি নিয়ে বেশ রসিকতার ছলেই নিজের অস্বস্তির কথা তুলে ধরেছেন তিনি। এমনকি মজা করে সাহায্য চেয়েছেন তানজিন তিশার কাছেও।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দীপা জানান, এক বান্ধবীর কাছ থেকে উপহার হিসেবে একটি শাড়ি পেয়ে প্রথমে বেশ খুশিই হয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
উপহার দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ওই বান্ধবী তাকে মেসেজ দিয়ে শাড়িটি পরে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার অনুরোধ জানান।
দীপা জানান, শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি শাড়িটি পরে ছবি তুলে ওই বান্ধবীকে পাঠিয়ে দেন, যাতে তারা নিজেদের ইচ্ছামতো সেটি ব্যবহার বা পোস্ট করতে পারেন। কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি অনুরোধের পালা।
পরে নির্দিষ্ট একটি পেজকে ট্যাগ করে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি থেকে পোস্ট দেওয়ার অনুরোধ করা হলে কিছুটা বিরক্তি থেকেই বিষয়টি নিয়ে মজার ছলে পোস্ট করেন এই অভিনেত্রী।
দীপা লিখেছেন, ‘ভয় লাগে কবে জানি আম্মা ভর্তা পাঠায়ে বলে ট্যাগ করে পোস্ট দে, নাহলে কেস করে দেব! এমন হলে তানজিন তিশা আমাকে বাঁচাইও। এই পোস্টের যুগে আমি কেন ভাই? নিজের টাকায় জিনিস কেনার পরও অনেকে রিভিউ চায়। সম্পর্ক আর কাজের মানে আমরা কি ভুলে গেছি?’
দীপার এমন পোস্টে মন্তব্য করতে দেরি করেননি তানজিন তিশাও। অভিনেত্রীর মন্তব্যের জবাবে তিনি লেখেন, ‘আপু ভালো একটা কথা বলেছেন! কোনো চিন্তা করবেন না। আমি আছি লড়াই করার জন্য।
আল্লাহ ভরসা।’
সম্প্রতি একটি অনলাইন শপিং পেজ থেকে শাড়ি নেওয়া, সেটির প্রচার এবং মূল্য পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে তানজিন তিশাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সেই অনলাইন শপিং পেজের পক্ষ থেকে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়।
তিশার দাবি ছিল, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হলে গত ১৩ আগস্ট ঢাকার একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তিনি।
আর সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দীপা খন্দকারের এই রসিকতাপূর্ণ পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উপহার পাওয়া কোনো পণ্য প্রচারের অনুরোধ কতটা স্বাভাবিক, আর সম্পর্কের জায়গায় এমন প্রত্যাশার সীমারেখাই বা কোথায়—দীপার পোস্ট ঘিরে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠছে এমন প্রশ্নও।
