তিন মাসে বিদেশী ঋণ পরিশোধ ১৩৫ কোটি ডলার

অর্থনীতি স্লাইড

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় এক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই তিন মাসে বাংলাদেশ সরকারের বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ বৈদেশিক সহায়তার ছাড়কে ছাড়িয়ে বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৩৫ কোটি ডলারের বিশাল অংকের দায় পরিশোধ।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত তিন মাসে সরকার বিভিন্ন বিদেশি ঋণ ও সহায়তার বিপরীতে মোট ১৩৫ কোটি ১২ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে ঋণের মূল বা আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৮৬ কোটি ডলার এবং সুদ হিসেবে দিতে হয়েছে ৪৯ কোটি ডলার। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১২৭ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই প্রায় ৮ কোটি ডলার বেশি অর্থ বিদেশে পরিশোধ করতে হয়েছে।

এদিকে ঋণ পরিশোধের এই ক্রমবর্ধমান চাপের বিপরীতে দেশে বিদেশি অর্থছাড়ের চিত্র অনেকটাই হতাশাজনক। আলোচ্য তিন মাসে বিদেশ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় বা সহায়তায় ছাড় হয়ে এসেছে মাত্র ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ডলার, যার মধ্যে ৫৪ কোটি ডলার ঋণ এবং ১২ লাখ ডলার আসল হিসেবে এসেছে। অথচ আগের অর্থবছরের একই সময়ে মোট অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ, ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বাড়লেও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে অর্থছাড়।

অন্যদিকে, নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। আলোচিত তিন মাসে নতুন অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি এসেছে ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৬ কোটি ডলার বেশি। তবে এই প্রতিশ্রুতির বড় অংশে বড় কোনো বহুপক্ষীয় বা দ্বিপক্ষীয় সংস্থার বড় ভূমিকা দেখা যায়নি। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), চীন, রাশিয়া ও ভারতের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রধান দাতা সংস্থাগুলো এই সময়ে কোনো নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি, কেবল জাপান থেকে ৩৫ লাখ ডলারের নতুন প্রতিশ্রুতি এসেছে।

সামগ্রিকভাবে, বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তার অর্থছাড় কমার পাশাপাশি তিন মাসে ১৩৫ কোটি ডলারের বিশাল অংকের ঋণ পরিশোধ করতে হওয়ায় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *