ইউরো ট্রফিই আমার কাছে বিশ্বকাপ : রোনালদো

খেলা স্পেশাল

 

ট্রফি ক্যাবিনেটে এত এত অর্জন, কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ট্রফিটাই ছোঁয়া হলো না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে পর্তুগালের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও একবার অপূর্ণই থেকে গেল আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই মহাতারকার বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

তবে বিশ্বমঞ্চের এই চরম ব্যর্থতা নিয়েও আক্ষেপে পুড়তে রাজি নন সিআরসেভেন। তিনি জানান, ২০১৬ সালে পর্তুগালের হয়ে জেতা ইউরো ট্রফিটি তার কাছে বিশ্বকাপের সমান।

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে নকআউট পর্বের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে নিজের ছায়া হয়েই ছিলেন ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধে স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমোনকে পরীক্ষা নেওয়া একটি দুর্বল শট ছাড়া মাঠের বাকি সময় তাকে খুব একটা চেনা ছন্দে দেখা যায়নি।

ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে, অর্থাৎ স্টপেজ টাইমের প্রথম মিনিটে মিকেল মেরিনোর গোলে স্পেনের জয় নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বেজে যায় পর্তুগালের বিদায়ঘণ্টাও। এই ম্যাচের আগেই রোনালদো পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, এটাই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।

সাফল্যে মোড়ানো ক্যারিয়ারে ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখতে না পারার বড় এক শূন্যতা সঙ্গী হলেও ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে বেশ সাবলীল ছিলেন রোনালদো। সেখানে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের কন্টিনেন্টাল সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘পর্তুগালের হয়ে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়।

ওই ট্রফিটি আমার কাছে বিশ্বকাপের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রায় ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২০১৬ সালের ইউরো কাপ ছাড়াও ২০১৯ এবং ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জিতেছেন রোনালদো। তবে ক্লাব ফুটবলে রাজার মতো রাজত্ব করলেও বিশ্বকাপে তার সুখস্মৃতি নেই বললেই চলে। ২০০৬ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলাই ছিল বিশ্বমঞ্চে তার সর্বোচ্চ দলগত অর্জন। এরপর আর কখনো শেষ চারে পা রাখতে পারেনি পর্তুগিজরা।

বিশ্বকাপে আরও একটি ব্যর্থ মিশন শেষে তাই দেশের হয়ে জেতা অন্য ট্রফিগুলোর ওপরই জোর দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সাবেক কিংবদন্তি। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল আমি একদম পরিষ্কার বিবেক নিয়ে ঘুম থেকে উঠব। কারণ আমি নিজের সর্বস্ব দিয়ে খেলেছি। আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিস্তিয়ানোর অভিষেকের আগে পর্তুগাল কোনো শিরোপাই জেতেনি।’

স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই পর্তুগালের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ কি না, এমন প্রশ্নে অবশ্য সরাসরি কোনো উত্তর দেননি আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা রেখে রোনালদো বলেন, ‘আমি আবেগের বশবর্তী হয়ে কখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিই না। আমি খেলা চালিয়ে যাব কি না, তা এই মুহূর্তে মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *