আজ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

জাতীয় স্লাইড

যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ সারা দেশে পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব মিশন ও দূতাবাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিনটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হচ্ছে এবং আজ সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকারি ও বিভিন্ন মহলের কর্মসূচি

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব তফশিলি ব্যাংক বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকেও দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার যুগান্তকারী বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকার কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ও র‍্যালি

আজ সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে র‍্যালিটি কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে। এ ছাড়া জেলা ও মহানগরেও র‍্যালি ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

বিশেষ সেবা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ

টোল ফ্রি যাতায়াত: দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত—এই ছয় ঘণ্টা কোনো টোল ছাড়াই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছেন যানবাহন চালকেরা।

বিনামূল্যে বিনোদন: সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় দেশের সব শিশু পার্ক দিনব্যাপী শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

উপাসনালয় ও প্রতিষ্ঠানে বিশেষ আয়োজন: দেশের সকল মসজিদে মিলাদ-মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু পরিবারগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ আলোচনা ও রচনা প্রতিযোগিতা, শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দেশাত্মবোধক গানের আসর এবং প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। সে সময়ের কঠিন রাজনৈতিক সংকটে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত হয় এবং বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন স্বাধীনতার ঘোষক ও তৎকালীন সেনা অধিনায়ক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। বক্তারা এবং বিশিষ্টজনেরা বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা আমাদের জাতীয় জীবনে চিরকাল অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *